বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাগদাহ গ্রামে মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সামাজিক সংকট গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামের মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়ছেন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকপ্রবণতার নেতিবাচক পরিচিতির কারণে অন্য এলাকার পরিবারগুলো বাগদাহ গ্রামের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে অনেক মেয়ের বিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামটির বিভিন্ন পাড়ায় প্রকাশ্যে মদ ও গাঁজা বিক্রি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে একাধিকবার বস্তাভর্তি গাঁজা ও মদ উদ্ধার হলেও বন্ধ হয়নি এই অবৈধ ব্যবসা। ফলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে এলাকার যুবসমাজ। অভিভাবকদের দাবি, মাদকের কারণে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা গ্রামটির সামগ্রিক সামাজিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে গ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্তি রোধ এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, মাদকমুক্ত না হলে গ্রামের সম্মান ও সামাজিক স্থিতি রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন চলিশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সানা আব্দুল মান্নান, অভয়নগর থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, জামায়াতের ইউনিয়ন সভাপতি রজব আলী ফারাজী, শিক্ষক দাউদ আলী মোল্লা, শিক্ষক সাইফ উদ্দিন শেখ, প্রফেসর নুরুজ্জামান, ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন, জহুরুল হোসেন মোল্লা ও মো. সবুজ গাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। মাদক কারবারি যে দলেরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

Share.
Exit mobile version