অভয়নগর সংবাদদাতা
যশোরের অভয়নগরের প্রত্যন্ত ভাটপাড়া এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হোপ মডেল একাডেমি মানসম্মত শিক্ষা ও ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
২০১১ সালে মাত্র ২৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্লে-গ্রুপ থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ১২৪ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। রয়েছেন আটজন শিক্ষক।
প্রতিষ্ঠানটি অতীতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাস, একাধিক এ-প্লাস ও বৃত্তি অর্জনের গৌরব অর্জন করেছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলদ বাগান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও মনোরম পরিবেশ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সাল পর্যন্ত ভাটপাড়া ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ভালো মানের শিক্ষার জন্য রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দূরবর্তী নওয়াপাড়া কিংবা ফুলতলার স্কুলগুলোতে যেতে হতো। গ্রামীণ শিশুদের এই কষ্ট লাঘব করতে এবং এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে এগিয়ে আসেন কিছু শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ইঞ্জিনিয়ার গাজী খালিদুর রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং পাকুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তৈয়েবুর রহমান, ইসমাইল বিশ্বাস, মৌলভী কাদির আহমেদ, সুশীল কান্তি দাস, ডা. হারুন অর রশিদ, শিক্ষক আব্দুল মতলেব, মো. লেহাজ ও শিক্ষক আব্দুল গফুরের মতো গুণীজনদের অনুপ্রেরণায় ২০১০ সালের শেষের দিকে স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আমানুর রহমান বলেন, “নন্দিত পল্লি ভাটপাড়ার মতো একটি গ্রামে হোপ মডেল একাডেমি প্রতিনিয়ত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষের ভালোবাসাই এই প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি।”
স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করে পাপিয়া দাস নামের এক অভিভাবিকা বলেন, “এই স্কুলটি আমাদের এলাকায় হওয়ায় আমরা অত্যন্ত নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে আমাদের সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারছি।”
প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, এলাকার মানুষের সহযোগিতা ও শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। আগামী দিনেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ অব্যাহত থাকবে।

