আব্দুল কাদের, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছা উপজেলার বাঘারদাঁড়ি গ্রামের কৃষক সেলিম আঙুর চাষে সফলতা অর্জন করে এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিচর্যার মাধ্যমে তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জানা যায়, কয়েক বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প পরিসরে আঙুর চাষ শুরু করেন সেলিম।
শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও নিজের পরিশ্রমে তিনি সফলতা অর্জন করেন। বর্তমানে তার বাগানে বিদেশি বিভিন্ন জাতের আঙুর উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে বাইকুনুর, রেডগ্লোভ, গ্রীন লংসহ ১৯ জাতের আঙুর গাছ রয়েছে।
স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন তিনি। সেলিম জানান, আঙুর চাষে অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় লাভ বেশি। সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বছরে একাধিকবার ফলন পাওয়া সম্ভব। তার সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষকও আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, আগে এই অঞ্চলে আঙুর চাষের কথা খুব একটা শোনা যেত না। সেলিমের সফলতা প্রমাণ করেছে যে যশোরের মাটিতেও বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। এতে নতুন কর্মসংস্থান ও কৃষিতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা মুশাব্বির হোসেন জানান, আধুনিক ও লাভজনক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষকদের আঙুর চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আঙুর যদিও বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত তবে গত কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে আঙুর চাষ হচ্ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে চৌগাছাতেও বাইকুনুর জাতের আঙুরের বাগান গড়ে উঠেছে এটি সম্প্রসারণযোগ্য এবং এই আঙুর বাজারে চাহিদা রয়েছে, যেকোনো ধরনের কারিগরি সহযোগিতার জন্য আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সব সময় কৃষকের পাশে রয়েছে। সেলিমের মতো উদ্যোক্তারা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছেন। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে আঙুর চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।
আঙুর চাষে সফল হয়ে সেলিম শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, বরং এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার পথও দেখিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ বর্তমানে চৌগাছা উপজেলায় কৃষি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সফল কৃষক সেলিম জানান, আঙুর চাষে আগ্রহী নতুন উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সহযোগিতা করতে তিনি সবসময় প্রস্তুত। যারা আঙুরের বাগান করতে ইচ্ছুক, তারা তার খামার থেকে উন্নত মানের আঙুরের চারা সংগ্রহ করতে পারবেন।
এছাড়া আঙুর চাষের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতাও প্রদান করা হবে। আগ্রহীরা বিস্তারিত তথ্যের জন্য ০১৭৫৮৮২৬০৬৯ মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগ করতে পারেন।
