বাংলার ভোর প্রতিবেদক

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত সাবিয়া ইয়াসমিন রিমুর (২০) পরিবার দাবি করেছে, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের রায়পটন গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে রিমুর বিয়ে হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর রিমু জানতে পারেন তার স্বামী রিয়াদের সঙ্গে আপন চাচী আসমাউল হুসনা কেয়ার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

এ বিষয় নিয়ে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন সময় রিমুর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। নির্যাতনের কারণে প্রায় তিন মাস আগে রিমু বাবার বাড়িতে চলে আসেন।

পরে ঈদুল আযহার সময় দুই পরিবারের সমঝোতার ভিত্তিতে তিনি আবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান।

নিহতের পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও পূর্বের সম্পর্কের বিষয়টি বহাল থাকায় নতুন করে বিরোধ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জুন রিমুর মৃত্যু ঘটে।

শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিমুকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা রিমুর মরদেহ খাটের ওপর শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান এবং ফ্যানের একটি পাখার সঙ্গে গামছা বাঁধা ছিল। পরিবারের সদস্যদের মতে, প্রায় ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের ঝুলে থাকার পরও ফ্যানের পাখা অক্ষত থাকা স্বাভাবিক নয়।

এছাড়া মরদেহের পিঠ, কোমর, উরু ও ডান পায়ের তলায় আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় শ্বাসরোধের মতো চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী শিহাব শাহরিয়ার রিয়াদ, শ্বশুর শহিদুল ইসলাম, শাশুড়ি রেহেনা সুলতানা এবং চাচী আসমাউল হুসনা কেয়া পরিকল্পিতভাবে রিমুকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযুক্ত করতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনাটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হোক।”

এ ঘটনায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Share.
Exit mobile version