শ্যামনগর সংবাদদাতা
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি একনলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান চালিয়ে জোনাব বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি স্লুইগেট সংলগ্ন এলাকায় জোনাব বাহিনীর কয়েকজন সদস্য অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কৈখালী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই এলাকা থেকে তিন ডাকাতকে আটক করে।
আটকরা হলেন আজিবার গাজী (৪৭), রবিউল গাজী (৪৪) এবং ফারুক হোসেন (৩৬)। তারা সবাই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা।
পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১১টার দিকে শ্যামনগর থানার হরিণটানা খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে জোনাব বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোস্ট গার্ডের চলমান কার্যকর অভিযানের ফলে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অসাধু চক্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং অপরাধ দমন কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচারের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও দস্যু দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মিডিয়া কর্মকর্তা বলেন, সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
