বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আওয়াল বলেছেন, একাত্তরে যারা বাংলাদেশের ভৌলিক সীমারেখা সৃষ্টি করতে বাধা দিয়েছিল। আজকে তারা কিন্তু আমাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছে। একাত্তরে তাদের ভূমিকার কারণে যশোরের নদীতে মানুষের লাশ ভেসেছিল। সেদিন যশোরে রক্তের নদী দেখেছি। একাত্তরের তাদের ভূমিকার কারণে যশোরে এমন নারকীয় দৃশ্য আমার চোখে দেখা। স্বাধীনতার বিরোধীরা ভোটের জন্য মানুষের সাথে ধোঁকাবাজি করছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী সভায় তিনি এ কথা বলেন। বৃহস্পতিবার ফুতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুর বাজারের অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরও বলেন, তারাই বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে। এটা কোথায় উল্লেখ আছে? তারা আমাদের বুঝিয়ে দিক।
দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে যদি জান্নাতে যাওয়া যায় তাহলে মানুষ কেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে শীত রাতে ইবাদত বন্দেগি করবে? আমি মুসলিম নামাজ পড়ি, রোজা রাখি বেহেশতের আশায়। হিন্দুরা পূজা করে স্বর্গে যাওয়ার আশায়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে কেউ জান্নাত কিংবা স্বর্গে যাবে না। এই ধোঁকাবাজদের থেকে আপনারা (এলাকাবাসী) সাবধান থাকবেন। বিগত দিনে তরিকুল ইসলামের হাত ধরে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন হয়েছে। যাদের হাতে আপনারা উন্নয়ন পেয়েছেন আগামী নির্বাচনে তাদের প্রতি আবারও আস্থা রাখবেন।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি অনিন্দ্য ইসলাম দিনব্যাপী ফতেপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে বালিয়াডাঙ্গায় সকল ধর্মের নারী পুরুষ ঘরের সন্তানের মতো অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ফুল ছিটিয়ে বরণ করেন। শিশুরা উচ্ছ্বসিত হয়ে তার গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়। এভাবে ইউনিয়নের পথে পথে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করার পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে আস্থা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত নির্বাচনী সভায় তার বক্তব্যে বলেন, আকাশে বাতাসে আবার ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কে বা কারা নাকি হাসিনা স্টাইলে আবারও আমাদের ভোট ডাকাতি করতে চায়। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে অবিচল ছিলাম। এই অধিকারের জন্য আমাদেরকে রক্তের নদী পাড়ি দিতে হয়েছে। আমার হাজার হাজার রাজনৈতিক সহকর্মী জীবন দিয়েছে। লাখ লাখ সহকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে। তারপরও আমরা রাজপথ ছেড়ে যায়নি। আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেব। আগামী ১২ তারিখ প্রয়োজনে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেব। ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি ফলাফল গুণে বুঝে নেব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র সৃষ্টি হোক এটা যারা চায়নি। যারা লাল সবুজের পতাকা এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের বিরোধীতা করেছিল। আজ তারাই নতুন বাংলাদেশ গড়ার কল্পকাহিনী শোনাচ্ছে। এটা নিছক মিথ্যাচার ছাড়া কিছু না। একাত্তরে যাদের ভূমিকার কারণে ত্রিশ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছে। আমার দুই লাখ মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। তাদের কোন কথায় মানুষ বিভ্রান্ত হবে না। আর যাই হোক জনগণ তাদের প্রতি কোনভাবেই আস্থা রাখবে না। এ দেশের মানুষের কাছে সেই দল রাজাকার, আল বদর বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত।
তিনি বলেন, যশোরের মানুষের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করতে চাই। আমার পিতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম আপনাদের (জনগণ) ভোটে নির্বাচিত হয়ে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এই প্রতিষ্ঠানটি আপনাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। আগামী দিনে সুযোগ পেলে আপনাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমার পিতার হাতে তৈরি যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করবো।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন বিগত দিনে এই অঞ্চলে মাদক সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজ একটি বড় সমস্যা ছিল। মাদক সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজদের বিপক্ষে বরাবরই আমার এবং আমার রাজনৈতিক দলের অবস্থান। আমি এই এলাকাকে মাদক সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজ মুক্ত করবো। সে যদি আমার পরিবার এবং দলের কোন সদস্য হয় তার সাথে কোন আপোষ করবো না। তিনি বলেন, ফতেপুরে বিসিক শিল্প নগরীতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষা মৌসুমে ব্যপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমি আগামী দিনে সুযোগ পেলে ইউনিয়নের সকল সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবো ইনশাআল্লাহ।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সীতারামপুর, বাউলিয়া বাজার, বাউলিয়া মধ্যপাড়া, দাইতলা, ফতেপুর বাজার, তারাগঞ্জ বাজার, নালিয়া বাজার, চাঁদপাড়া, সুলতানপুর, ঝুমঝুমপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। দিনব্যাপি গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন বাবলু , ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
