প্রবাস বাংলা
ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ব্যাপক রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় অন্তত ১৪০ জন আহত হয়েছেন। এতে করে সংঘাত শুরুর পর থেকে আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৯ জনে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত একদিনে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৪০ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এছাড়া ১৯ জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ১১৪ জন তুলনামূলকভাবে কম আঘাতপ্রাপ্ত এবং তারা বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে। কিছু ক্ষেত্রে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে এবং আতঙ্কে পালানোর সময় আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে, ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই অন্তত ৫০২ জন আহত ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং জরুরি বিভাগগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সরাসরি আঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। বিভিন্ন শহরে ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকাতেও উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সেখানে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে সম্মুখ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষের সময় গিভাতি ব্রিগেডের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ওই ব্রিগেডের আরও একজন সৈনিক আহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ক্রমাগত রকেট ও মর্টার হামলা চালানো হচ্ছে। এর জবাবে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সমর্থিত হিজবুল্লাহ সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে চলমান হামলা ও সংঘর্ষের কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক জায়গায় সাইরেন বাজিয়ে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে সতর্ক করা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় স্কুল ও জনসমাগম বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে।

