বাংলার ভোর প্রতিবেদক
রমজানকে কেন্দ্র করে যশোরের বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ডাবের দাম। মাঝারি একটি সাইজের ডাব ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাইছেন বিক্রেতা।
কোন কোন ক্ষেত্রে দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতা বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিক্রেতারা বলছেন, ব্যাপারি আমাদের যে দামে মাল দিয়ে যায় শতকরা ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ পার্সেন্ট লাভ রেখে আমরা তা ছেড়ে দেই।
এ হিসেবে একটি ডাব বেঁচলে লাভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০-৩০ টাকা।
যশোর শহরের হাসপাতাল গেট এলাকার ডাব বিক্রেতা সোহেল বিশ্বাস বলেন, যশোর শহরে চাহিদার তিন ভাগের দুই ভাগ ডাব সরবরাহ করে মণিরামপুরের ব্যাপারিরা। মূলত ডাবের বাজার তারাই নিয়ন্ত্রণ করে।
সোহেল বিশ্বাস আরো বলেন, রোজায় ডাবের দাম বৃদ্ধির কারণে আমাদের বিক্রি অনেক কমে গেছে। কারণ দাম বৃদ্ধি পেলে বিক্রিও কমে যায়। রোজার আগে যে ডাব কিনতাম ৯০ থেকে পঁচানব্বই টাকায়। বর্তমানে সেই একই ডাব ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
দড়াটানা ভৈরব পাড়ের বিক্রেতা শ্যামল বিশ্বাস বলেন, ছোট ডাব ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করছি। এতে পিস প্রতি আমার ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভ থাকে।
ঘোপ এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলী বলেন, পবিত্র মাহে রমজানে একটি ডাব কিনতে হচ্ছে ১৫০ টাকায়। এটা আমাদের জন্য লজ্জার। কারণ এই একই আকারের ডাব রোজার শুরুর দুই দিন আগে আমি কিনেছি ১০০-১১০ টাকায়। যারা রমজানকে টার্গেট করে এটা করছেন, সবার আগে তাদের ভাবতে হবে আমরা মুসলমান।
ঘোপ জেল রোড কুইন্স হাসপাতালের সামনে ডাব বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, রোজায় বেশি দামে ডাব কিনতে হচ্ছে। বিধায় আমাদের বিক্রি অনেক কমে গেছে।
মিস্ত্রিখানা রোডসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে জানা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিক্রেতা পা চালিত ভ্যানে ডাব বিক্রি করছেন। তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া এবং বসুন্দিয় এলাকা থেকে তারা ডাব কিনে এনে শহরে বিক্রি করেন। এসব বিক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক দাম কম পাওয়া গেছে।
ডাব বিক্রেতা শাহ আলমগীর হোসেন বলেন, নিজ খরচে লেবার দিয়ে গাছে উঠিয়ে প্রতটি ডাব কেনা পড়েছে গড় ৭৭ টাকা। এরপর ভ্যান ভাড়া, নিজের শ্রমের দাম। তবে আমি খরচের পর ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভে ডাব বিক্রি করি।
মিস্ত্রিখানা রোডের পোশাক ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বলেন, আমি ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে ডাব কিনি। এদের কাছ কিছুটা কমে ডাব কেনা যায়।
