বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ভোরের আলো ফুটতেই কাজে বের হন তিনি। সারাদিন ইট-বালু-সিমেন্টের সঙ্গে যুদ্ধ, ঘাম ঝরানো পরিশ্রম এটাই তার জীবন। কিন্তু দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়েও তার মনে থাকে অন্য এক চিন্তা কীভাবে আরেকটি শিশুর হাতে তুলে দেয়া যায় একটি কলম, একটি স্কেল, আর একটু স্বপ্ন।
তিনি হোসাইন আহমেদ। যশোরের কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর গ্রামের এক সাধারণ মানুষ। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী। কিন্তু মানবিকতায় তিনি অনেকের চেয়ে অনেক বড়।
গত ১৬ বছর ধরে নিজের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেই তিনি জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে স্কেল ও কলম বিতরণ করে আসছেন। কারও কাছে এটি হয়তো ছোট সহায়তা। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এটি পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসের একটি বড় ভরসা।
শুধু কলম-স্কেল বিতরণ নয় হোসাইন আহমেদের গল্প আরও গভীর। ঝরে পড়া ৭ জন শিক্ষার্থীকে তিনি আবার স্কুলে ফিরিয়েছেন। এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের চোখে আজ নতুন স্বপ্ন, নতুন আলো।
চলতি বছরও থেমে নেই তার এই পথচলা। ২০০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে ১৫০ জনের হাতে পৌঁছে গেছে তার ভালোবাসার উপহার। বাকি কাজ শেষ করতে তিনি ব্যস্ত। কারণ তার কাছে সময় মানেই কারও ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়ার সুযোগ।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিনভর তিনি ঘুরেছেন একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। মোমিনপুর, ভান্ডারখোলা, টিটাবাজিতপুর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ৮৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দিয়েছেন স্কেল ও কলম।
প্রতিটি শিশুর মুখে তখন একরাশ হাসি আর তার চোখে তৃপ্তির ঝিলিক।
হোসাইন আহমেদ বলেন, আমি বড় কিছু করতে পারি না। কিন্তু যদি একটি শিশু পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস পায়, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।
তার স্বপ্ন খুব বড় নয় কিন্তু গভীর। তিনি চান কেশবপুর উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যাক তার এই ছোট্ট সহায়তা।
সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তার একটাই আবেদন ‘আপনারা পাশে দাঁড়ালে আরও অনেক শিশুর জীবন বদলে দেয়া সম্ভব।’
এই গল্প কেবল একজন হোসাইন আহমেদের নয়। এটি প্রমাণ করে, বড় কিছু করতে বড় মানুষ হতে হয় না। দরকার শুধু বড় একটি মন।
