বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীকে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহীদ করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে যশোর। রোববার বিকেলে ‘সর্বস্তরের যশোরবাসী’র ব্যানারে যশোর প্রেসক্লাব চত্বরে এক বিশাল বিক্ষোভ ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী শত শত মানুষের কণ্ঠে ছিল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী স্লোগান এবং নেতার বিয়োগে গভীর শোক।

বিকেল ৪টার দিকে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাব মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশ চলাকালীন অনেক নারী ও শিশুকে বুকে হাত দিয়ে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। যা উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা ইকবাল হোসেন, সাবের রেজা, ফিরোজ খান, সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আলী হায়দার এবং মাওলানা আবদি হোসেন প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী নির্মমভাবে খামেনেয়ীকে হত্যা করে মুসলিম উম্মাহর অভিভাবককে কেড়ে নিয়েছে। তারা মনে করেছে এভাবে মুসলমানদের হত্যা করে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেওয়া যাবে। আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু তারা ভুল ভাবছে। আমরা শহিদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত, তবুও আমেরিকার গোলামি আমরা মানব না।

বক্তারা আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার প্রধানমন্ত্রীকে তুলে আনা থেকে শুরু করে খামেনেয়ীকে হত্যা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না। তারা গায়ের জোরে বিশ্ব শাসন করতে চায়। এই জুলুম-নির্যাতন চিরদিন চলবে না। একদিন বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের বিজয় নিশ্চিত হবে।

সমাবেশে বক্তারা মুসলিম দেশগুলোর রহস্যজনক নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি, বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো আজ চুপ হয়ে আছে। মুসলমানদের ভেতরই আজ মুসলমানদের শত্রু বাসা বেঁধেছে।

এই প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা অবিলম্বে আমেরিকান এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি বিনীত আহ্বান জানান। তারা বলেন, শোষকের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেয়াই হবে এই অন্যায়ের অন্যতম মোক্ষম জবাব।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির এই আস্ফালন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়।

Share.
Exit mobile version