♦ যশোর ১-২ আসনে লড়াইয়ে আসার চেষ্টায় লিটন-মুন্নি
♦ যশোর-৩ এ অনেকটাই নির্ভার অমিত
♦ সাতক্ষীরায় নিরঙ্কুশ জয় চায় জামায়াত
♦ খুলনায় লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
♦ মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ-মাগুরায় এগিয়ে জামায়াত
♦ নড়াইল-বাগেরহাটে জিততে পারেন স্বতন্ত্ররাও
বাংলার ভোর ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে পরিচালিত মাঠপর্যায়ের প্রাথমিক জরিপে ভোটের সমীকরণ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি (জাপা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, গণঅধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, গণফোরাম, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল), বাংলাদেশ জাসদ, জেএসডি (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি), গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ সম-অধিকার পার্টিসহ মোট ৫১টি দল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। প্রার্থীরাও তাদের পছন্দের প্রতীক নিয়ে ইতিমধ্যে নেমে পড়েছেন জোর প্রচারণায়।
এদিকে, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল ও প্রার্থীদের অবস্থান নিয়ে খুলনার বিভাগের আসনগুলোতে বাংলার ভোরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও সংবাদদাতারা কথা বলেছেন ভোটার ও কর্মী সমর্থকদের সাথে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী খুলনা বিভাগের বেশ কিছু আসনের বিএনপির বিদ্রোহীদের কারণে বেকায়দায় থাকলেও অন্যান্য আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। একই সাথে বেশ কিছু আসনে স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও থাকবেন জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
খুলনা : খুলনা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। খুলনা-২ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল ভোটের লড়াই জমিয়ে তুলেছেন। খুলনা-৩ আসনে বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল ও জামায়াতের অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল এগিয়ে থাকলেও ১০-দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মাঠে রয়েছেন। খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এগিয়ে থাকলেও বিএনপির আলী আসগর লবি প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করেছেন। খুলনা-৬ আসনে জামায়াতের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মনিরুল হাসান বাপ্পি থেকে।
মেহেরপুর: মেহেরপুর-১ আসনে বিএনপির মাসুদ অরুন এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তাজউদ্দীন খান। মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপির আমজাদ হোসেনের থেকে জামায়াতের নাজমুল হুদা রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-১ আসনে বিএনপির রেজা আহাম্মেদ ও জামায়াতের বেলাল উদ্দীনের মধ্যে সরাসরি লড়াই হবে। কুষ্টিয়া-২ আসনে জামায়াতের আব্দুল গফুর এগিয়ে থাকলেও বিএনপির রাগীব রউফ চৌধুরী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার চেষ্টায় রয়েছেন। কুষ্টিয়া-৩ আসনে বিএনপির জাকির হোসেন সরকার ও জামায়াতের আমির হামজার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কুষ্টিয়া-৪ আসনেও বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও জামায়াতের মো. আফজাল হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতের মো. মাসুদ পারভেজ এগিয়ে, বিএনপির মো. শরীফুজ্জামান দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতের রুহুল আমিন এগিয়ে এবং বিএনপির মাহমুদ হাসান খান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ-১ আসনে বিএনপির মো. আসাদুজ্জামান ও জামায়াতের আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমানের মধ্যে মূল লড়াই হবে। ঝিনাইদহ-২ আসনেও বিএনপির প্রার্থী ও জামায়াতের আলী আজম মো. আবু বকরের মধ্যে দ্বিমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতের মতিয়ার রহমান এগিয়ে থাকলেও বিএনপির মোহাম্মদ মেহেদী হাসান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এগিয়ে আছেন। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে জামায়াতের মো. আবু তালিবও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আর বিএনপির মনোনীত রাশেদ খান এখনও নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারেননি।
মাগুরা: মাগুরা-১ আসনে বিএনপির মনোয়ার হোসেন ও জামায়াতের আব্দুল মতিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। তবে এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী এখন পর্যন্ত অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলে আভাস মিলেছে। মাগুরা-২ আসনে জামায়াতের মুশতারশেদ বিল্লাহ এগিয়ে থাকলেও বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত যদি বিএনপির সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামালের সমর্থকরা নিতাই রায়ের পাশে দাঁড়ান তবে এখানেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
নড়াইল: নড়াইল-১ আসনে বিএনপির বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ও জামায়াতের মো. ওবায়দুল্লাহ সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। নড়াইল-২ আসনে জামায়াতের মো. আতাউর রহমান এগিয়ে থাকলেও বিএনপির এ, জেড, এম, ফরিদুজ্জামান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
বাগেরহাট: বাগেরহাট-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম, বিএনপির কপিল কৃষ্ণ মন্ডল ও জামায়াতের মশিউর রহমান খানের মধ্যে ত্রিমুখি লড়াই হবে। বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো এম এ এইচ সেলিম এগিয়ে আছেন, এরপরেই জামায়াতের শেখ মনজুরুল হক (রাহাদ)। বাগেরহাট-৩ আসনে জামায়াতের মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াদুদ শেখ এগিয়ে এবং বিএনপির শেখ ফরিদুল ইসলাম দ্বিতীয় অবস্থানে। বাগেরহাট-৪ আসনে বিএনপির সোম নাথ দে এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের আব্দুল আলীম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব এগিয়ে এবং জামায়াতের মো. ইজ্জত উল্লাহ দ্বিতীয় অবস্থানে। সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক এগিয়ে থাকলেও বিএনপির মো. আব্দুর রউফ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল আলম এগিয়ে এবং জামায়াতের মুহা. রবিউল বাশার পরের অবস্থানে। সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের জি, এম, নজরুল ইসলাম এগিয়ে এবং বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তবে এ জেলায় জামায়াতের রয়েছে শক্ত দুর্গ। তাদের আশা বিগত দিনের মত নিরঙ্কুশ বিজয়ের। আর বিএনপি চাইছে জেলাব্যাপি জয়।
