বাংলার ভোর প্রতিবেদক
রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় আকাশচুম্বী করা হয়েছে। এপ্রিল মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই সঙ্গে পরিবহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও লিটারে প্রায় ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন এই দাম ঘোষণার পরপরই যশোরের জ্বালানি বাজারগুলোতে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান এখন ক্রেতাশূন্য। হঠাৎ এত বড় দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ সিলিন্ডার কেনা কমিয়ে দিয়েছেন।
শহরের বকুলতলায় গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে আসা রহমত আলী তার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, সরকার হুট করে গ্যাসের দাম এভাবে বাড়িয়ে দিল যে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায়। বাসার সিলিন্ডার শেষ হওয়ায় নতুন করে কিনতে এসেছি, কিন্তু দাম শুনে হাত কাঁপছে। বাজারে সব জিনিসের দামই তো বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ছে না। এভাবে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মার্চ মাসে যে ১২ কেজি সিলিন্ডার তারা ১ হাজার ৩৪১ টাকায় বিক্রি করেছেন। এখন ১ হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। হঠাৎ দামের এই বড় ব্যবধানের কারণে ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডাও হচ্ছে।
এদিকে, রাজধানী ঢাকার যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস নেই, সেখানে সিলিন্ডার গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে। ঢাকার বাসিন্দারা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এক লাফে ৩৮৭ টাকা দাম বাড়ার ফলে মাসিক বাজেটে বড় ধরনের ওলটপালট হয়ে যাবে।
বিইআরসি’র নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কেবল ১২ কেজি সিলিন্ডারই নয়, বাসাবাড়িতে কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যবহৃত রেটিকুলেটেড এলপিজির দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি কেজি রেটিকুলেটেড এলপিজির দাম এখন থেকে ৩১১ টাকা ৭০ পয়সা। তবে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকাতেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য একমাত্র স্বস্তির খবর হলেও বাজারে এর সরবরাহ খুবই সীমিত।
অন্যদিকে, পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অটোগ্যাসের দামও এপ্রিল মাসের জন্য বড় ব্যবধানে বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে এর দাম ছিল ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা। গত ২ মার্চ দাম সামান্য কমলেও এক মাস যেতে না যেতেই বিশাল এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন খাতে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের কারণে এই সমন্বয় করতে হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৫৬ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা করা হয়েছিল। গত মার্চ মাসেও দাম অপরিবর্তিত ছিল। তবে এপ্রিলের শুরুতে এই বিশাল উল্লম্ফন সাধারণ ভোক্তাদের জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ সন্ধ্যা থেকেই সারা দেশে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে এই নতুন দাম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

