বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের বাঘারপাড়ায় এক এতিম নারীর পৈত্রিক সম্পত্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাদের বিরুদ্ধে। রোববার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মিমি বেগম এই অভিযোগ করেন।
মিমি বেগম বাঘারপাড়া থানার ভিটাবল্যা গ্রামের মৃত মাসুদুল হকের মেয়ে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, পাঁচ বছর আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি ও তার মা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মিমি বেগমের দাবি, পৈত্রিক ওয়ারিশ ও দাদির অংশ মিলিয়ে তিনি মোট ৬৬ শতক জমি পান। কিন্তু তার বড় চাচা মাহমুদুল হক ও ছোট চাচা মঞ্জুরুল হক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ভুল বুঝিয়ে মাত্র ২৭ শতক জমি বুঝিয়ে দেন।
বাকি ৩৯ শতক জমি দাবি করলে চাচারা তাদের ‘পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী’ দিয়ে মিমিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং “খোঁজ নেয়ার মতো কেউ নেই” বলে অপমান অপদস্ত করেন।
নিরুপায় হয়ে মিমি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তারিখে তার প্রাপ্ত ৬৬ শতক জমি পান্না শেখ ও সানি আহম্মেদ নামের দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু ক্রেতারা জমিতে গাছ কাটতে গেলে চাচারা পুলিশ ডেকে কাজ বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগী জানান, পুলিশ উভয় পক্ষকে ২৮ ফেব্রুয়ারি থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিলেও চাচারা তা অমান্য করেন। উল্টো প্রকৃত জমির ক্রেতাদের (যারা বিএনপি’র পদধারী নেতাকর্মী) বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী’ তকমা দিয়ে অনলাইন ও পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে হয়রানি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মিমি বেগম বলেন, আমি এতিম হওয়ায় তারা আমার ওপর জুলুম করছে। আমার পৈত্রিক হক বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমাকে ও আমার জমির ক্রেতাদের সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছি।

