বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে দোকান বরাদ্দের নামে প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা কাঁচাবাজারটি এক কোটি ৪১ লাখ এক হাজার ৪৭৫ টাকায় ইজারা নেন আতিকুর রহমান লেন্টু। ইজারার লিখিত স্ট্যাম্পের ১১ নম্বর শর্তে বাজারের ভেতরে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ কিংবা ভাঙাগড়ার কাজ না করার বিধান রয়েছে।
কিন্তু ওই শর্ত উপেক্ষা করে পুনর্বাসনের কথা বলে বাজারের মধ্যস্থানে ১৪টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকান বরাদ্দের নামে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। সমিতির তহবিলের নামে এ অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এর কোনো লিখিত হিসাব বা আর্থিক স্বচ্ছতা নেই। অর্থ গ্রহণের বিপরীতে কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যবসায়ী বলেন, “পুনর্বাসনের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল অস্বচ্ছ। কার অনুমতিতে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে সেটিও স্পষ্ট নয়। কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাউকে হয়রানি বা অবৈধভাবে কোনো দোকান দেয়া হয়নি। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।” তিনি দোকানপ্রতি ৫০ হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগও নাকচ করে দেন।
অন্যদিকে বাজারের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু অভিযোগ করে বলেন, “আমি এক কোটি ৪১ লাখ এক হাজার ৪৭৫ টাকায় চৌগাছা কাঁচাবাজার ইজারা নিয়েছি। লিখিত স্ট্যাম্পের ১১ নম্বর শর্তে স্পষ্টভাবে বলা আছে, বাজারের মধ্যে কোনো স্থাপনা তৈরি বা ভাঙাগড়া করা যাবে না।
কিন্তু আমি ঢাকায় থাকার সুযোগে আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বাজারের মধ্যে ১৪টি দোকান স্থাপন করেছেন। তারা প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন।
অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইজারার শর্ত লঙ্ঘন, জায়গা দখল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

