বাংলার ভোর প্রতিবেদক:
জৈষ্ঠ্যের তীব্র তাপদাহে ওষ্ঠাগত যশোরবাসী। গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী চাতকের মতো অপেক্ষা করছিল একটুখানি বৃষ্টির। অবশেষে নেমে এলো সেই স্বস্তির বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুরে পর থেকে আকাশে ছিল মেঘের আনাগোনা। কিন্তু এত সহসা যে বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে হয়তো আশা করতে পারেননি যশোরবাসী।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, যশোরে কয়েকদিন ধরেই তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। রাতে এক পশলা বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তিতে ফিরে নগরবাসী। তবে আবার বাড়বে গরম।
বৃহস্পতিবার সকাল গড়াতেই যশোরের রাস্তা, ঘাট ও ফসলের মাঠ যেন উত্তপ্ত মরুভূমিতে পরিণত হয়। ঘরের বাইরে বের হলেই গায়ে লাগছিল আগুনের হলকা। রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ ছাতা, টুপি কিংবা গামছা দিয়ে মাথা ঢেকে তীব্র রোদ থেকে নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন। কেউ রাস্তার পাশে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেন, আবার কেউ হাত-মুখে পানি দিয়ে শরীর ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় শরবত, আখের রস ও স্যালাইন পানির চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ।
যশোর শহরের লালদীঘির পাড় এলাকায় আখের রস বিক্রেতা কালাম হোসেন বলেন, “গরমের কারণে আখের রসের বিক্রি বেড়েছে। অনেক মানুষ এসে রস খাচ্ছে। কিন্তু এই গরমে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ব্যবসা করাও খুব কষ্টের। ছায়া খুঁজে দাঁড়িয়ে রস বিক্রি করতে হচ্ছে।”
রিকশাচালকদের দুর্ভোগ আরও প্রকট। শহরের রায়পাড়া এলাকার রিকশাচালক আলী হোসেন বলেন, “রাস্তায় বের হলেই মনে হয় আগুনের মধ্যে আছি। একটু রিকশা চালালেই শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছে। মাথা ঘুরে আসে। তারপরও সংসারের জন্য কাজ করতে হচ্ছে।”
একই কথা জানালেন দড়াটানা এলাকার রিকশাচালক কাশেম আলী। তিনি বলেন, “গরমে রিকশা চালালে গায়ে আগুনের ছ্যাকা লাগে। তবুও চালাতে হচ্ছে। কিন্তু যাত্রী কমে গেছে। ভাড়া নিয়ে শহরের এক প্রান্তে গেলেও অনেক সময় খালি ফিরে আসতে হয়।”
তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা বারবার ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় কাজ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শহরের কিশোর ও যুবকদের অনেকেই স্বস্তির খোঁজে দল বেঁধে গ্রামের নলকূপ কিংবা পুকুরে গোসল করতে ছুটছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ শুধু মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই ব্যাহত করছে না, বরং স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার আশঙ্কা বাড়ছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন যশোরে সর্বোচ্চ ৪৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল, যা দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। আর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে, সেদিন তাপমাত্রা ছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যশোরবাসীর একটাই প্রত্যাশা এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির দেখা মিলেছে সন্ধ্যা পার হতে না হতেই। এতে খানিকটা হলেও স্বস্তি এসেছে জনজীবনে। তবে আবহাওয়া দপ্তর বলছে গরম আরও বাড়বে।
