বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের বহুল আলোচিত হিসাব সহকারী মনিরুজ্জামানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আলোচনা-সমালোচনার অবসান ঘটতে শুরু করেছে। সরকারি বদলি আদেশ জারির পর দীর্ঘ সময় নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে নানা তদবির ও গড়িমসির অভিযোগে সমালোচিত এই কর্মকর্তা অবশেষে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
গত ১ জুন তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার দপ্তরে গোপনীয় সহকারী পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের খবরে তালা উপজেলাজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ২১ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন, ঘুষ-দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রভাব বিস্তারের নানা অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, বদলি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে তার কিছুটা নিরসন হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালা ইউএনও কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন মনিরুজ্জামান।
ঠিকাদারদের বিল যাচাই, পেমেন্ট ভাউচার প্রস্তুত, চেক ইস্যু, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ, ভ্যাট ও আয়কর কর্তন, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং অডিট-সংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রশাসনের ভেতরে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেবাপ্রার্থীদের একাংশের দাবি, কোনো ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি কিংবা বিল পাস করাতে হলে বিভিন্নভাবে আর্থিক লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হতো। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, অযথা বিলম্ব করা এবং নানা অজুহাতে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে ঘুষখোর মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই প্রেক্ষিতে উপায়ন্তর না পেয়ে একপ্রকার তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বাধ্য হন।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চ সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মনিরুজ্জামানকে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বদলি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার দপ্তরে গোপনীয় সহকারী পদে পদায়ন করা হয়।
