নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিকরগাছা
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা ১৯৯৮ সালের ৪ এপ্রিল গঠনের শুরু থেকে নিয়োগ প্রাপ্তরা আজ পর্যন্ত কোথাও তারা বদলি হননি। আর দীর্ঘদিনের কর্মস্থরের সুযোগে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ পৌর সদরে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাসহ নানা পেশায় জড়িত হয়েছেন। এ দীর্ঘ সময়ে মাত্র মাস দুয়েক আগে একজন কর্মচারীকে চৌগাছা পৌরসভায় বদলি করা হয়েছে।
২০০১ সালের ২ এপ্রিল ভোটের মাধ্যমে পৌরসভার সাবেক মেয়র (তখন চেয়ারম্যান পদবী) মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল নির্বাচিত হন। এরপর সীমানা জটিলতা দেখিয়ে দীর্ঘ ২১ বছর আর কোন ভোট হয়নি। ২০২২ সালে ১৬ জানুয়ারি পৌরসভা নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তিনি পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন।
পৌর মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল দীর্ঘদিন মেয়র থাকায় এ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে নিজের অবৈধ স্বার্থসিদ্ধির জন্য কাউকে কোথাও বদলি করেননি। মেয়র জামাল ছিলেন (সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত) উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৩৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পৌরসভা গঠনের পর থেকেই এখানে কর্মরত রয়েছেন। পৌরসভার কার্য সহকারী শাহা আলম মিন্টু সম্প্রতি বদলি হয়েছেন চৌগাছা পৌরসভায়। বাকিরা আছেন বহাল তবিয়তে ।
দ্বিতীয় শ্রেণীর ঝিকরগাছা পৌরসভায় বর্তমানে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার হাজরা, হিসাব রক্ষক খাইরুল আলম, কর নির্ধারক মুরাদ হোসেন, কর আদায়কারী মাহবুবুর রহমান, সহকারী কর আদায়কারী তাজ উদ্দিন আহম্মেদ, প্রধান সহকারী মশিউর রহমান, লাইসেন্স পরিদর্শক শরিফুজ্জামান, উচ্চমান সহকারী আব্দুর রাজ্জাক, অফিস সহকারী কামরুজ্জামান, কার্য সহকারী শাহা আলম ও এনামুল কবীর। স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শহীদ আলম, টিকাদানকারী আবু সাঈদ, পারভীন সুলতানা, মুকুল সিদ্দিকি। স্বাস্থ্য সহকারী শাহাদাত হোসেন, ট্রাক চালক সিরাজুল ইসলাম, বিল ক্লার্ক মনিরুল ইসলাম, পাম্পচালক আলিমুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, আশরাফুল নাঈম এবং মঞ্জুর আলম।
পাম্প মেকানিক কামারুল ইসলাম, বাজার পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী কামরুজ্জামান ও মাহমুদুল হাসান, বিদ্যুৎ হেলপার মো. টিটু, রোলার ড্রাইভার মনিরুল ইসলাম, অফিস সহায়ক ইসরাইল হোসেন, শামসুজ্জামান এবং মফিজুর রহমান। নৈশপ্রহরী আজিজুর রহমান, সার্ভেয়ার রাকিব হোসেন, স্টোর কিপার একরামুল করিম সৈকত, ট্রাকচালক ফারহান মাহমুদ এবং মুজাহিদ হোসেনসহ ৩৯ জন কর্মরত রয়েছেন।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমামুল ইসলাম রঞ্জু বলেন, বদলিযোগ্য পদের ব্যক্তিদের বদলি করা না হলে স্থানীয়রা নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। ঝিকরগাছা পৌরসভার সকল কর্মচারী কর্মকর্তাগণ আওয়ামী লীগ ঘরানার। ২২ বছর ধরে তারা একই স্থানে কর্মরত থাকায় অধিকাংশই চাকরির পাশাপাশি নানা পেশায় জড়িয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ ব্যবসা, ঘরবাড়ি নির্মাণ সামগ্রির ব্যবসা, ব্যাংক এজেন্ট ব্যবসা, মুদি ব্যবসাসহ নানা ব্যবসা।
এ কারণে পৌরসভায় তারা বেশি সময় দেননা বলেও অভিযোগ আছে। একই সাথে দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হওয়ায় পৌরবাসীকে দেয়া নানা সেবার ক্ষেত্রে তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নিয়ে হয়রানি করছেন সেবাগ্রহীতাদেরকে।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা পৌরসভার প্রশাসক রনী খাতুন বৃহস্পতিবার জানান, বদলি সংক্রান্ত বিষয় পৌর প্রশাসকের নয়। এটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
