বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে পূর্বে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন আলোচিত তরুণী সামিয়া আফরুজ শান্তি।

তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধকে পুঁজি করে একটি চক্র তাকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির চেষ্টা করেছে। রোববার বেলা ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সামিয়া আফরুজ শান্তির মা সেলিনা খাতুন, বাবা সাজেদুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে পুরো ঘটনার সূত্রপাত। গত ৩ মার্চ তার বোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিলে তা নিয়ে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

পরবর্তীতে রাগের বশে তিনি নিজেই দুলাভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক কিছু ছবি ও তথ্য ভুয়া আইডির মাধ্যমে পরিচিতজনদের কাছে পাঠান। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে পারিবারিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

তিনি দাবি করেন, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, বিষয়টি বড় করে তুললে তার দুলাভাইকে জব্দ করা যাবে। একইসঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন বক্তব্য দিতে চাপ দেয়া হয়।

তারা হলেন, স্বদেশ বিচিত্রার সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু এবং সার্চ টুডের সাংবাদিক ও মনিরামপুর মনিরপুর সেন্ট্রাল ক্লিনিকের ম্যানেজার নূর ইসলাম নাহিদ। সামিয়া আফরুজ শান্তি অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা তাকে দিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করানো, ভিডিও সাক্ষাৎকার দেয়া এবং লিখিত বক্তব্য তৈরির মতো কাজ করাতে থাকে। এমনকি কী বলতে হবে, সেটিও তাদের পক্ষ থেকে সাজিয়ে দেয়া হয়। পরে এসব ব্যবহার করে তার দুলাভাইয়ের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, তাকে ভয় দেখানো হয় যে তাদের কথা না শুনলে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে এবং তাকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হতে পারে। এ সময় সাহায্যের কথা বলে তার কাছ থেকে অর্থও নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তাকে কৌশলে যশোরে নিয়ে আসা হয় বলে জানান তিনি। সেখানে কয়েকদিন তাকে আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখা হয়। এ সময় তার পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, একপর্যায়ে পরিবারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন সময় ফোন করে হুমকি দিতে থাকে এবং প্রভাবশালী সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, তার অজ্ঞাতসারে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য ব্যবহার করে কুরুচিপূর্ণভাবে প্রচার চালানো হয়েছে, যা তার ও তার পরিবারের মানহানি ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে পূর্বে যে গুরুতর অভিযোগগুলো তোলা হয়েছিল, সেগুলো সঠিক নয় এবং তাকে ভুল বুঝিয়ে এসব করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্তদের একজন স্বদেশ বিচিত্রার সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ওই নারীর সাথে তার একদিন কথা হয়েছে, তবে ওই কথোপকথনের কোনো রেকর্ড তার কাছে নেই।

Share.
Exit mobile version