শরিফুল ইসলাম
জঙ্গলবাঁধাল জামে মসজিদকে ঘিরে এখন স্থানীয়দের গর্ব আর দর্শনার্থীদের আগ্রহ। যশোর জেলার জঙ্গলবাঁধাল গ্রামে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি তার অনন্য নির্মাণশৈলী ও মনোরম পরিবেশের কারণে ইতোমধ্যেই পরিচিতি পেয়েছে আশপাশের এলাকায়।
৫৬ শতক জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন স্থানীয় মুসল্লিরা। শুধু জঙ্গলবাঁধাল গ্রামই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকেও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে ছুটে আসেন। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মসজিদটির স্থাপত্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে জঙ্গলবাঁধাল স্কুলের পাশে ছোট পরিসরে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকলে নতুন করে বড় পরিসরে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় ২০১৬ সালে নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কয়েক বছরের নির্মাণকাজ শেষে ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় দৃষ্টিনন্দন এ স্থাপনাটি।
মসজিদটির নকশা প্রণয়ন করেছেন এলাকার কৃতি সন্তান, বুয়েট থেকে পাস করা ইঞ্জিনিয়ার পলাশ খান। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও নান্দনিক কারুকাজে নির্মিত মসজিদটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় পৌঁনে দুই কোটি টাকা।
মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি মাদরাসা, যেখানে শিশু-কিশোররা কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি একটি শান্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করাই ছিল উদ্যোক্তাদের মূল লক্ষ্য।
জঙ্গলবাঁধাল জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আসলাম শেখ জানান, “মানুষ যাতে সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে।”
নান্দনিক স্থাপত্য ও ধর্মীয় চর্চার সমন্বয়ে জঙ্গলবাঁধাল জামে মসজিদ এখন এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

