বাংলার ভোর প্রতিকেদক
নড়াইলে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ট্রাকচালক সুজাত আলীকে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রোববার ভোরে কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অপর অভিযুক্ত জহুরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেফতার সুজাত আলী নড়াইল সদর উপজেলার পরুলি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
রোববার সন্ধ্যা ৬ টায় যশোর র্যাব ক্যাম্পে আয়েজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৬ এর অধিনায়ক এটিএম ফজলে রাব্বি জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করার পর রোববার ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে অভিযুক্তের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের অধিনায়ক আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুজাত আলী ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রসঙ্গত, নড়াইল-যশোর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ওই নড়াইলের তানভীর ফিলিং স্টেশনে শনিবার দিবাগত রাতে ট্রাকচালক সুজাত মোল্যা ও তার সহযোগী জহুর ডিজেল নিতে যান।
তবে স্টেশনে জ¦ালানি তেলের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার তাদের তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন ট্রাকচালক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রাকচালক জহুর প্রকাশ্যে নাহিদকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
এর কিছু সময় পর রাত প্রায় ২টার দিকে কাজ শেষে নাহিদ ও তার সহকর্মী জিহাদ মোটরসাইকেলে করে নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
ফিলিং স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে পৌঁছালে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে এসে ঘাতক ট্রাকটি তাদের মোটরসাইকেলের ওপর তুলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাহিদ সরদার নিহত হন। আহত জিহাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর সুজাত আলী ব্যবহৃত ট্রাকটি বেনাপোল বন্দরে রেখে বাঘারপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর রয়েছে।

