মনিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুরে হরিহর নদী খননের মাটি নিলামে বিক্রির অতিরিক্ত টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরশহরে এ সংঘর্ষ হয়। এতে জামায়াত-বিএনপির অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ ঘটনায় বিএনপি এবং জামায়াত একে অপরকে দোষারোপ করেছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, হরিহর নদী খননের পর নদীর দুই তীরের অতিরিক্ত মাটি নিলাম আহ্বান করা হয়। সে মোতাবেক বৃহস্পতিবার চারটি লটে মোট ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি বিক্রির প্রকাশ্য নিলাম দুপুর থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শেষ হয়।

এ নিলামে বিশেষ করে জামায়াত এবং বিএনপির মাটি ব্যবসায়ীরা অংশ নেন। নিলামে চারটি লটে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে টেণ্ডারে মাটি পান রবিউল ইসলাম বাধাঘাটা ব্রিজের নিকট পাঁচ লাখ টাকায়, রাজগঞ্জ ব্রিজের নিকট জাহাঙ্গীর বিশ্বাস ৭৭ হাজার টাকায়, বাকোশপোলে সাইফুল ইসলাম ১৯ লাখ ৬১ হাজার ২১৬ টাকায় এবং নিমতলা ঘাটে শরিফুজ্জামান পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৭২৬ টাকায় মাটির টেণ্ডার পান।

সূত্র জানায় পরে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি এবং জামায়াতের মাটি ব্যবসায়ীরা ওই মাটি নিজেদের মধ্যে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত দশ লাখ টাকা লাভে বিক্রি করেন। এ সময় সেখানে জামায়াত এবং বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মীর উপস্থিতি হয়।  সূত্র জানায় লাভের ১০ লাখ টাকা জামায়াত এবং বিএনপির কতিপয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত কর্মীদের মাঝে বিতরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে টাকা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তখনও সেখানে দুই থেকে তিন’শ লোক টাকা বঞ্চিত ছিল। ফলে বঞ্চিতরা হৈ চৈ শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে তরকারি বাজারে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হাতে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন মারপিটের শিকার হন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পাল্টা ধাওয়া দেয় জামায়াতের নেতাকর্মীদের। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এবং দক্ষিণ মাথায় জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জামায়াত-বিএনপির কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়।

এতে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, নায়েবে আমির মহিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন, আল মামুনসহ অন্তত: ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়। এ সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে আহতদের উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। তবে এর মধ্যে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে যশোর ২৫০ শয্য জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এ ব্যাপারে জানতে উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সহকারী সেক্রেটারী আহসান হাবিব লিটন জানান, তিনি ও মহিউল ইসলাম তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় প্রথম জখম হয় ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেন ও আল মামুন।

পরে দু’ পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। মণিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কোন পক্ষ এখনও অভিযোগ করেনি। তবে রাত ১০ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পৌরশহরে দ’ পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছিল।  

Share.
Exit mobile version