বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতির যথাযথ অনুসরণ হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল হাসান ফারুক ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে কর্মঘণ্টার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কলেজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ ওঠে।

সূত্রের দাবি, তার মেয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় ব্যক্তিগত কারণে তিনি প্রায়ই কলেজের বাইরে সময় কাটান। অভিযোগ অনুযায়ী, সপ্তাহে কয়েকদিন মেয়েকে কোচিংয়ে আনা-নেওয়ার কারণে দিনের প্রথম ভাগে কলেজে তার উপস্থিতি সীমিত থাকে।

একাধিক দিন সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি সকালে মেয়েকে কোচিং সেন্টারে পৌঁছে দিয়ে কিছু সময়ের জন্য কলেজে আসেন। পরে পুনরায় কোচিং সেন্টারে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে বাসায় পৌঁছে দিয়ে কলেজে ফেরেন। একইভাবে দুপুরের আগেও তাকে কলেজ ত্যাগ করতে দেখা যায় বলে সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজে একাডেমিক কার্যক্রমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতি প্রশাসনিক কাজে প্রভাব ফেলছে। তবে দুপুরের পর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি কলেজে অবস্থান করেন বলেও জানা গেছে। কলেজ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, এ বিষয়টি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি যশোর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে সে সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়।

এদিকে কলেজের কয়েকটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, আবুজর গিফারি নামে এক মাস্টাররোল কর্মচারীকে দায়িত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাকে অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হচ্ছে, যা সরকারি বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে অফিকুর, অঞ্জলী ও ছায়রা নামে তিনজন মাস্টাররোল কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রফিকুল ইসলামকে নির্বাচন ছাড়াই পুনরায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এতে সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চা ব্যাহত হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে অল্প সময়ের জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও সেটি নিয়মিত মেয়াদের মধ্যে গণ্য হয় না।

স্টাফ কাউন্সিলের সভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সামনে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবারও সভা অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যক্ষ নাজমুল হাসান ফারুকের কাছে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলো শুনে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনার কথা বলেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

Share.
Exit mobile version