শরিফুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনবিধি অনুযায়ী ভোটের আগে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে যশোর শহরের বিভিন্ন সড়কে অবাধে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্দিষ্ট সময়ের আগে ও পরে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও কিছু পরিবহন চলাচল সীমিত রাখার কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যেমন—জিরো পয়েন্ট, চৌরাস্তা, মনিহার, আরএন রোড, পালবাড়ি ও ধর্মতলা এলাকায় দিন-রাত অবাধে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন থাকলেও তার বাস্তব প্রয়োগ তেমনভাবে চোখে পড়ছে না। অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে চলাচল করছেন, আবার কিছু যানবাহনে রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকদেরও দেখা গেছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
শহরের একজন ভোটার বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন যদি কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করত, তাহলে এভাবে যান চলাচল সম্ভব হতো না।”
এদিকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান তৎপরতা কম বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে মাঝে মধ্যে পুলিশ সদস্যদের যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করতে দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে তারা মাঠে কাজ করছেন। অনুমোদিত যানবাহন, জরুরি সেবা এবং প্রয়োজনীয় কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কিছু ক্ষেত্রে চলাচলের অনুমতি রয়েছে। তবে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। আইন অমান্য করে অবাধে যানবাহন চলাচল করলে নির্বাচনী পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং ভোটারদের আস্থা কমে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন। তারা আশা করছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে যশোরে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
