বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলের মোট ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপি, জামায়াত ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাড়া সব প্রার্থীই সব ভোটকক্ষে পোলিং এজেন্ট দিতে পারছেন না। জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে সর্বনিম্ন ৪২৫টি বুথ বা ভোটকক্ষ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোটকক্ষ রয়েছে যশোর-৩ (সদর) আসনে ১২৪৪টি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সব ভোটকক্ষের জন্য পোলিং এজেন্টের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও এজেন্টের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। অন্য দলের অধিকাংশ প্রার্থী কেবল কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা ভোটারদের কাছেও অপরিচিত। সাংগঠনিকভাবে দুর্বল রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ায় তাদের এই সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েনে। অনেকের জামানত হারানোর শংকাও রয়েছে।

যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২ কেন্দ্রের ৫৭৭ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে প্রত্যেক প্রার্থী ৫৭৭জন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন। এর মধ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের তালিকা করতে পেরেছেন বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ) ও জামায়াতের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা)’র প্রার্থী। কিছু নির্বাচনী কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা)।

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে ১৭৫ কেন্দ্রে ৯০৫টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। একজন প্রার্থীর প্রত্যেক কক্ষে পোলিং এজেন্ট দিতে প্রয়োজন ৯০৫জন। শতভাগ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিতে পেরেছেন বিএনপির সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ), জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা)। কিছু কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিবেন ইসলামী আন্দোলন ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাসদের ইমরান খান (মই), স্বতন্ত্র মেহেদী হাসান (ফুটবল), বিএনএফ শামছুল হক (টেলিভিশন), এবি পার্টির রিপন মাহমুদ (ঈগল)। ব্যালটে স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া) প্রতীক থাকলেও ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০ কেন্দ্রের এক হাজার ১৮৩ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সেই হিসেবে একজন প্রার্থীর এক হাজার ১৮৩ জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে। শতভাগ কেন্দ্রে তালিকা প্রস্তুত করেছেন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), জামায়াতের আব্দুল কাদের (দাঁড়িপাল্লা)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার নিজামদ্দিন অমিত (চশমা), জাতীয় পার্টির খবির গাজী (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির রাশেদ খান (কাস্তে) কিছু কিছু কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেবেন।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের ৮৬৯ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সেই হিসেবে একজন প্রার্থীর ৮৬৯জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে। শতভাগ কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের তালিকা প্রস্তুত করেছেন বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল (দাঁড়িপাল্লা)। কিছু কিছু কেন্দ্রে তালিকা প্রস্তুত করতে পেরেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র এম, নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ (মোটরসাইকেল), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল (রকেট), জাতীয় পার্টির জহুরুল হক (লাঙ্গল), খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী (ঘড়ি)।

যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮ কেন্দ্রের ৭২০ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। সেই হিসেবে একজন প্রার্থীর ৭২০জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে। শতভাগ পোলিং এজেন্ট দিতে পেরেছেন জামায়াতের গাজী এনামুল হক (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির রশীদ আহমাদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (কলস)। এছাড়া জাতীয় পার্টির এম.এ হালিম (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র মো. কামরুজ্জামান (ফুটবল), ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা) কিছু কেন্দ্রে এজেন্ট তালিকা প্রস্তুত করতে পেরেছেন।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১ কেন্দ্রের ৪২৫ কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। এ আসনে একজন প্রার্থীর ৪২৫জন পোলিং এজেন্ট দরকার হবে। শতভাগ এজেন্ট দিতে তালিকা প্রস্তুত করতে পেরেছেন বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), জামায়াতের মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা)। শতভাগ তালিকা প্রস্তুত করতে পারেনি জাতীয় পার্টির জি.এম, হাসান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), এবি পার্টির মাহমুদ হাসান (ঈগল)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর-২ আসনের বাসদ মনোনীত প্রার্থী ইমরান খান বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিচ্ছি না। ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার উপরই আস্থা রাখছি। আশা করি প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবে। যশোর-৪ আসনে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-(বিএমজেপি) মনোনীত প্রার্থী সুকৃতি কুমার মণ্ডল বলেন, আমার প্রত্যেকটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট প্রস্তুত আছে। ভোটের দিন তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে কিনা সেটি নির্ভর করবে নির্বাচনী পরিবেশের উপর। তাই কৌশলগত কারণে এখনই আমরা পোলিং এজেন্টদের নাম প্রকাশ করছি না।’

Share.
Exit mobile version