বাংলার ভোর প্রতিবেদক
রাজনীতির মাঠ আর ক্ষমতার সমীকরণ বদলায়, কিন্তু বদলায় না মায়ের প্রতি সন্তানের নাড়ির টান। যশোরের মঠবাড়ি গ্রামের এক রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর হাসপাতালের বেডে যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন এক মা তখন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা তার ‘ফেরারি’ সন্তানের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
রোববার (১ মার্চ) রাতে যশোরের কোতোয়ালী থানার মঠবাড়ি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ষাটোর্ধ্ব কহিনুর বেগমসহ পাঁচজন। বর্তমানে তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের শয্যায় যন্ত্রণার সাথে লড়ছেন। আহতদের তালিকায় আরও রয়েছেন মো. হাসানুজ্জামান (২৭), নাইম রেজা (১৬), মো. তাসনিম (২১) ও আব্দুর রহমান (৩১)।
আহত কহিনুর বেগম যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক সক্রিয় কর্মী জাহিদ হাসানের মা। দল নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকে জাহিদ এখন এলাকাছাড়া, ছন্নছাড়া। যখন তার নিজ গ্রাম মঠবাড়িতে মা ও ভাই-বোনদের ওপর হামলা চলছিল, তখন দূরে দাঁড়িয়ে নিভৃত কান্নাই ছিল জাহিদের একমাত্র সম্বল।
নিজের অসহায়ত্ব ঢেকে রাখতে না পেরে জাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। জাহিদ লিখেছেন “যে হাসপাতালে অন্য মানুষের সেবা করতে দিনরাত কাজ করেছি, সেখানেই আজ আমার মা-বোন-ভাইরা ব্যথায় কান্নাকাটি করছে। কিন্তু আমি আজ সেখানে যেতে পারছি না। মায়ের রক্তাক্ত মুখটা দেখার সামর্থ্যটুকুও আমার নেই। ক্ষমা করে দিও মা, তোমার এই অপরাধী সন্তানকে ক্ষমা করে দিও।”
যশোর জেনারেল হাসপাতালের নারী সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য। ব্যান্ডেজ জড়ানো কহিনুর বেগমের চোখ বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে। হয়তো তিনি খুঁজছেন তার সেই ছেলেকে। যার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আজ পুরো পরিবার এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
স্বজনরা জানান, জাহিদ রাজনীতির পাশাপাশি মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় হাসপাতালে ছুটে যেতেন। আজ তার নিজের রক্তই যখন ঝরছে, তখন তিনি একবিন্দু ছায়া দিতে পারছেন না তার পরিবারকে।
জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকলেও ঘটনার সাথে রাজনীতির মারপ্যাঁচ এবং জাহিদের অনুপস্থিতি বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়রা বলছেন, একজন সন্তান হিসেবে মায়ের পাশে থাকতে না পারার এই কষ্ট যেকোনো পাথর হৃদয়কেও স্পর্শ করবে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
