ডা. মো. হামিদ উদ্দীন
আজ থেকে শুরু হয়েছে মুসলিম উম্মাহর সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজান। মুসলমানদের কাছে এটি খুব গৌরবের এবং ফজিলতের একটি মাস। রোজা মুসলিমদের জন্য একটি ফরজ ইবাদত। কিন্তু শারীরিক কারণে অনেকেই রোজা রাখতে পারেন না বা অনেকেই রোজা রেখে খাবার গ্রহণে অনিয়মের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এ অবস্থায় অসুস্থ ব্যক্তিরা কিভাবে রোজা রাখবেন সে বিষয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন রমজানে চিকিৎসক পরামর্শে আজ লিখেছেন, যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রো লিভার বিশেষজ্ঞ মেম্বার অব আমেরিকান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিকাল এসোসিয়েশন ডা. মো. হামিদ উদ্দীন।

প্রথমেই তিনি জানিয়েছেন, একজন রোজদারকে ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লিটার পর্যন্ত পানি পান করতে হবে। যা ইফতারের এক থেকে দেড় ঘন্টা পরে ধীরে ধীরে শুরু করা যেতে পারে। তেলেভাজা জাতীয় খাবার এড়িয়ে ইফতারে ১/২ টি খেজুর, ১ গ্লাস পানি, হালকা প্রোটিন জাতীয় খাবার ছোলা, ডিম, ডাল রাখা যেতে পারে। ফলের মধ্যে পেঁপে, আপেল, পেয়ারা, নাসপাতি, কমলা, তরমুজ ও সীমিত পরিমাণে কলা থাকলে ভালো হয়। তালিকায় কম চিনি দিয়ে তৈরি ২০০ থেকে ২৫০ মিলিলিটার শরবত রাখা যেতে পারে। চা বা কফির প্রয়োজনীয়তা থাকলে ইফতারের ১ ঘন্টা পর পান করা ভালো।
রাতে শোবার সময় ভারি খাবার এড়িয়ে এক গ্লাস দুধ এবং সামান্য বাদাম খাওয়া উত্তম।

সেহরিতে ২ থেকে ৩ গ্লাস পানি, লাল আটার রুটি, ওটস, ডিম- ডাল, মাছ ও সবজি খাওয়া যেতে পারে।

এ সময়ে অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। তাই পর্যাপ্ত পানি, আঁশযুক্ত খাবার, ইসবগুলের ভুসি ও নানা রকমের ফল খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া যাদের এসিডিটির সমস্যা আছে তাদের লেবু না খাওয়া ভালো। সম্ভব হলে জিলাপি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তবে আলসার, এইচবিএসএজি, আইবিএস, ফ্যাটি লিভারসহ নানা রোগে আক্রান্তরা নিয়মিত ফলোআপ ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবেন।

Share.
Exit mobile version