বুলবুল শহীদ খান
রমজানকে সামনে রেখে যশোরের বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ইফতারে অন্যতম ফল কলার দাম শতকে উঠেছে। এতে কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মাত্র একদিন আগেও যে কলা ৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছিল বুধবার তা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছে।
শুধু কলা নয় এর সাথে পাল্লা দিয়ে দামের সেঞ্চুরি পার করেছে কাগজি লেবু, শসা, কাঁচা মরিচ, মুড়ি। আর হাফ সেঞ্চুরি পার করেছে বেগুন, টমেটো, চিড়া।

এদিকে দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ, ইফতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হওয়ায় কলার চাহিদা বেড়েছে। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিণ্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

বুধবার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বাজারে লেবু প্রকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। যা তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা হালি দরে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্চে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। গত তিন দিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৪০-৫০ টাকা কেজি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা এবং আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া ইফতার সামগ্রির মধ্যে চিড়া প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ছোলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, মুড়ি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং খেজুর জাতভেদে ৪০০ থেকে দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ডিমের দামও কিছুটা বেড়ে হালিপ্রতি ৩৮-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ২০৫-২১০ টাকা লিটার। আর খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০৫ টাকা।
রজমানকে সামনে রেখে বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি বাড়লেও অধিকাংশ পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে দেখা দেখা গেছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে চাহিদা বাড়ার সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিণ্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। রমজানে দাম সহনীয় রাখতে প্রশাসনের আরো নজরদারির দাবি জানান ভোক্তারা। এ সময় এক শহরের বেজপাড়া অঞ্চলের শরিফুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ‘মুসলিম বিশ্ব ত বটেই বিধর্মী রাষ্ট্র আমেরিকাতেও পবিত্র রমজান উপলক্ষে পণ্যমূল্যে নানারকম ছাড় দেয়া হয় রোজাদারদের সুবিধার জন্য’। আর সেখানে বাংলাদেশে রোজা শুরু হওয়ার আগ থেকেই প্রতিযোগিতা তৈরি হয় কিভাবে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে।

অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, তাদের বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এ কারণেই বেশি দামে বিক্রি করছেন তারা।

এ বিষয়ে যশোরের সিনিয়র বিপণন কর্মকর্তা কিশোর সাহা জানান, রমজান উপলক্ষে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। কোন ব্যবসায়ী অযৌক্তিক দাম নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো জানান, বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Share.
Exit mobile version