বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ভালোবাসার টানে ১৫ বছর আগে ঘর বেঁধেছিলেন বর্ষা খাতুন ও গোলাম রসুল। অভাব-অনটনের মাঝেও বাবার বাড়ির সহযোগিতায় বর্ষা তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন একটি সাজানো সংসার। কিন্তু সেই সাজানো বাগান আজ তছনছ। স্বামীর নেশা, পরকীয়া সম্পর্ক ও ঋণের বোঝায় ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। দুই সন্তানকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন সন্তানসম্ভবা বর্ষা খাতুন।
যশোর শহরের বানিয়ানি এলাকার রাজ্জাক মন্ডলের মেয়ে বর্ষার সাথে নিছার বিশ্বাসের ছেলে গোলাম রসুলের বিয়ে হয়েছিল ২০১২ সালে। রসুলের নিজের ভিটেমাটি না থাকায় বর্ষার পরিবারই তাকে আশ্রয় দেয়। শহরের প্যারিস রোডে ফুলের চারার দোকান করে দেন বর্ষার ভাইয়েরা। কিন্তু রসুলের নেশা ও অনৈতিক আসক্তি সব শেষ করে দেয়। সম্প্রতি নিজের মামাতো শ্যালকের স্ত্রী শারমিন সুলতানা তন্নীকে নিয়ে উধাও হন রসুল। যাওয়ার আগে এনজিও ও বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে সেই বোঝা চাপিয়ে দিয়ে গেছেন বর্ষার কাঁধে।
গল্পটি এখানেই শেষ নয়; কিছুদিন আগে রসুল যশোরে ফিরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতের শিকার হলে বর্ষার পরিবারই তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। কিন্তু সুস্থ হয়ে রসুল কৃতজ্ঞতা জানানোর বদলে উল্টো বর্ষার পরিবারের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ফোন করে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই পরকীয়া ও নেশার বলি হয়েছে কেবল বর্ষা নন, বরং তিনটি নিস্পাপ শিশুসহ অনাগত এ শিশু। বর্ষার ১২ বছর বয়সী ছেলে মো. রাতুল ও তিন বছরের ছেলে মো. আরিয়ান এখন মায়ের সঙ্গেই রয়েছে। অন্যদিকে তন্নীর আড়াই বছরের ছেলে আরহামকেও রেখে গেছে। সব মিলিয়ে দুই পরিবারের অন্তত ছয়টি জীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বর্ষা বলেন, সন্তান প্রসবের সময় প্রায় চলে এসেছে। এই সময় একটু মানসিক শান্তি আর পুষ্টিকর খাবার দরকার। কিন্তু আমি এখন দেনাদারদের ভয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি। ও আমার মামাতো ভাইয়ের সংসারটা ভেঙে তছনছ করে দিলো। আমি ন্যায়বিচার চেয়ে মামলা করেছি। আমার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিলো। আমাকে বিভিন্ন ভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন কোথায় যাব?
বর্ষার মামি স্বপ্না খাতুনও জানান তার ছেলের ঘর ভাঙার করুণ কাহিনী। নিজের আড়াই বছরের নাতিকে ফেলে তার ছেলের বউ রসুলের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা পুরো পরিবার।
এ বিষয়ে গোলাম রসুলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিভিস কললেও কোনো কথা বলেননি।
যশোরের এই পরিবারটি এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং সমাজের বিবেকবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করছে। নেশা আর অবৈধ প্রেমের নেশায় মত্ত গোলাম রসুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই এখন এই অসহায় মায়ের একমাত্র দাবি।
