পাইকগাছা প্রতিনিধি :
খুলনা-৬ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি ও জেলা আমীরের উপস্থিতিতে খুলনার পাইকগাছায় সাংগঠনিক সভায় একদল নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে হৈ হট্টগোল ও ভুয়া-ভুয়া শ্লোগান তুলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিলম্বে পাওয়া সংবাদে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রাড়ুলীস্থ আর,কে,বি,কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েট স্কুল মিলনায়তনে উপজেলা জামায়াতের ইসলামীর ওই সভার বিশৃঙ্খলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
যা খুলনাঞ্চলে ব্যাপক আকারে আলোচনা-সমালোচনার খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে জামায়তে ইসলামীর মতো সুসংগঠিত একটি রাজনৈতিক দলের সভায় এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও হৈ হট্টগোল কিভাবে ঘটলো। অনেকের মন্তব্য এ ঘটনা রীতিমতো তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিশেষ করে উপজেলার রাড়ুলীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে ভাগে জামায়াতের খুলনা জেলা ইউনিট সদস্য আর,কে,বি,কে হরিশ্চন্দ্র কলেজিয়েটের সহকারী অধ্যাপক মোমিন সানাকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করায় ইউনিয়ন জামায়াতের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। সূত্রের দাবি রাড়ুলী ইউনিয়নে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে দলীয় রোকন এস,কে মহিবুল্লাহ চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রচার প্রচারণা ও শোডাউন করে। যা ভালোভাবে নেয়নি দল। এক পর্যায়ে ২৭ মে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এস,কে মহিবুল্লাহকে দলের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িক বহিস্কার করেন। যা দলীয় অনেক নেতাকর্মী মেনে নিতে পারেননি। যদিও এস,কে মহিবুল্লাহ এর পূর্বে দল থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেন।
পরে শুক্রবারের ওই সাংগঠনিক সভায় নেতা কর্মীদের সামনে জেলা আমীরের বক্তব্যের পর সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের পূর্বে তাকে উদ্দেশ্য করে একদল বিক্ষুব্ধ কর্মী হট্টগোলে ও ভুয়া ভুয়া চিৎকার দিয়ে রীতিমতো বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করেন।
এ অবস্থায় সংসদ সদস্য বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে সভাটি শেষ করেন। একপর্যায়ে রাড়ুলী ক্যাম্প পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এনে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচ ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার নেপথ্যে বহিস্কৃত এসকে মহিবুল্লাহর চাচা জামায়াত কর্মী ওয়াজেদ, মাওলানা অজিয়ার, সাবেক এক ইউনিয়ন আমীরের ইন্ধনে মহিবুল্লাহর পরিবার ও আওয়ামী পন্থি অনুসারীরা বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
তবে এ অভিযোগ সম্বন্ধে বহিস্কৃত এসকে মহিবুল্লাহর কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান বলেন, রাড়ুলী ইউপি নির্বাচনে দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে দলের কেউ কেউ ক্ষুণ্ন হতে পারে। এটা নিয়ে কারোর মধ্যে কোন দ্বিধা যেন না থাকে এজন্য জেলা আমীর সবাইকে পরিস্কার ধারনা দেন। এর পরেও দলের পক্ষ থেকে একটি সাংগঠনিক সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় যারা হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলা করেছে তাদের মধ্যে অনেকেই বহিরাগত থাকতে পারে। তবে, দলের যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা অপেক্ষা করছে বলে তিনি জানান দেন।

