পাইকগাছা সংবাদদাতা
পাইকগাছার গড়ইখালীতে ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে পান্থ গাজী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বাজার কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ তিন ব্যবসায়ীকে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিলসহ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এদিকে খবর পেয়ে দুপুরে ওসি গোলাম কিবরিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষী যুবকসহ চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মাস্টার শহিদুল গাজীর ছেলে পান্থকে (২৮) অবিলম্বে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বিকেলে বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

গড়ইখালী বাজারস্থ শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে ব্যবসায়ীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে করে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ।

বাজার কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য পরিদর্শক আমিরুল হকের সভাপতিত্বে ও সাবেক সেক্রেটারি খানজাহান আলী খানুর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গড়ইখালী ইউপি চেয়ারম্যান জিএম আব্দুস ছালাম কেরু, বাইনবাড়ীয়া ক্যাম্প পুলিশের টু আইসি শরীফ কামাল, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি তুষার কান্তি মন্ডল, বিএনপি নেতা অ্যাড. সাইফুদ্দিন সুমন, ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মিজান জোয়াদ্দার, সেক্রেটারি মফিজুল ইসলাম টাকু, বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী ইসমাইল হোসেন, সাবেক সভাপতি নেয়ামত আলী সরদার, এস এম নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম সরদার, বাশারুল মোড়ল, নজরুল সরদার, সবুর গাজীসহ অনেকে।

সমাবেশে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন গড়ইখালী বাজারসহ এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরিসহ মাদকসেবিদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সাথে ৭/৮ জন যুবক জড়িত। এদের ভয়ে কেউ মুখ খোলেনা।

সম্প্রতি, গড়ইখালী বাজারের দোকান থেকে ৩ টি ব্যাটারি চুরি হয়। অভিযোগ শহিদুল গাজীর ছেলে পান্থ তার আইডি কার্ড জমা দিয়ে পাইকগাছা থানার সামনে একটি ভাঙাড়ী দোকান চুরি হওয়া ৩টি ব্যাটারী বিক্রি করেন। কিন্তু জানাজানি হলেও অজানা কারণে সংশ্লিষ্টরা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ঘটনার রেশ ধরে বৃহস্পতিবার সকালে পান্থ গাজী গড়ইখালী বাজারে এলে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা তাকে খুটিতে বেধে রাখে। খবর পেয়ে পান্থর মা ও কলেজ শিক্ষক মফিজুল ইসলাম লিটু বাঁধন খুলে দেয়।

মুহূর্তেই পান্থ বাজার কমিটির সভাপতি আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল গাজী ও অপর ব্যবসায়ী আবুল কালামকে এলোপাতাড়ি মারপিট-লাঞ্ছিতসহ অন্যদের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার পরেই ব্যবয়ারীরা এর প্রতিবাদে ও পান্থর গ্রেফতার দাবিতে দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও শটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

Share.
Exit mobile version