কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে স্বর্ণের চেইন হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তদন্তের সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা তাকে হুমকি দিয়েছেন। যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুরের বাসিন্দা খাদিজা পারভীন (২৬) গত ২৪ মার্চ মহেশপুর বাজারে গেলে সাফদারপুর ইউনিয়নের লক্ষীকুন্ডু গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে সোনিয়া আক্তার (২৪) তাকে কৌশলে একটি পার্লারে নিয়ে যান।

সেখানে একপর্যায়ে খাদিজার গলায় থাকা প্রায় ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন খুলে নেয়। পরে চেইনটি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্ত সোনিয়া সাফদারপুর বাজারের ‘রাখি জুয়েলার্স’ থেকে নতুন করে তৈরি করে দেয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ৩ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিকবার ডেকে নিয়েও দোকান বন্ধ পাওয়া যায় এবং বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যায় অভিযুক্ত।

একপর্যায়ে চাপ দিলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় খাদিজা পারভীন কোটচাঁদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ৯ এপ্রিল ওই অভিযোগ তদন্তের জন্য পুলিশ সোনিয়ার বাড়িতে গেলে পরবর্তীতে সোনিয়া উল্টো খাদিজার বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা পাওনার অভিযোগ তুলে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৩ এপ্রিল কোটচাঁদপুর মডেল থানার এসআই আব্দুর রহিম খাদিজার বাড়িতে গিয়ে তাকে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন এবং হুমকি প্রদান করেন বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী। এমনকি তার সম্পর্কে এলাকায় নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আব্দুর রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গিয়েছিলেন, কাউকে হুমকি দেননি।

পরে ২৩ এপ্রিল রাতে প্রতারণা মামলায় সোনিয়া খাতুনকে গ্রেফতার করে মহেশপুর থানা পুলিশ।

কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share.
Exit mobile version