কাজী নূর
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ক্রীড়া চর্চার অন্যতম প্রাচীন ও গৌরবময় সামাজিক প্রতিষ্ঠান যশোর ইন্সটিটিউট পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টায় তা শেষ হয়। ইনস্টিটিউটের ৩ হাজার ২৯ জন ভোটারের মধ্যে ২০৭৭ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বাতিল হয় ১১৮ টি ভোট।

নির্বাচনে এজেডএম সালেক স্বপন ও সেলিমের নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে ১৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। আর আনিসুজ্জামান পিন্টু ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ থেকে ৩ জন বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ মনোনীত প্যানেল (ব্যালট নং ১ থেকে ২০) ও ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ মনোনীত প্যানেল (ব্যালট নং ২১ থেকে ৪০) দুটি প্যানেল ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এছাড়া নুরুন্নবী (ব্যালট নং ৪১) ও মাহবুবুর রহমান (ব্যালট নং ৪২) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন।

এর আগে এদিন ভোট দিতে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে আসেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’র বিজয়ী ১৭ জন হলেন এজেডএম সালেক স্বপন প্রাপ্ত ভোট ১১৫৩, সৈয়দ শাহাজাহান আলী খোকন প্রাপ্ত ভোট ১১৩৩, কসেদুজ্জামান সেলিম প্রাপ্ত ভোট ১৪৮৮, শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন প্রাপ্ত ভোট ১০৩৭, অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন পেয়েছেন ১১০১ ভোট , অধ্যাপক ইবাদত আলীর প্রাপ্ত ভোট ১১৩৬, আলমগীর হোসেন বাবু পেয়েছেন ৯৮০ ভোট, জিল্লুর রহমান মানিকের প্রাপ্ত ভোট ১০৯১, হাচিনুর রহমান পেয়েছেন ৯৭৯, মাহমুদ হাসান বুলু পেয়েছেন ১০৬৮ ভোট, প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলীর প্রাপ্ত ভোট ১০৫৩, শাহাবুদ্দীন আহমেদ সাবু পেয়েছেন ৯৪৪ ভোট, এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবীরের প্রাপ্ত ভোট ৯৯৫, সানোয়ার আলম খান দুলুর প্রাপ্ত ভোট ১১০৫, এমরান সাদিক পেয়েছেন ১০২৬, অ্যাডভোকেট মো. আবুল কায়েসের প্রাপ্ত ভোট ৯৮২ ও রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল পেয়েছেন ১১৭১। অপর প্যানেল থেকে বিজয়ী তিনজন হলেন আনিসুজ্জামান পিন্টুর প্রাপ্ত ভোট ১০০৬, নাসির উদ্দীন মিঠু পেয়েছেন ১০৭০ ভোট ও হাবিবুর রহমান রুবেলের প্রাপ্ত ভোট ৮৬৬।

নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৭৫.১৭ শতাংশ। ইনস্টিটিউট চত্বরে ৩টি কেন্দ্রের ৪৫টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হয়। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই ব্যালট গণনা শুরু হয়।

এদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর ইনস্টিটিউটে নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ছিল বাড়তি উচ্ছ্বাস। সকাল থেকেই টাউন হল চত্বর ছিল সরগরম। প্রার্থীদের সমর্থকরা ব্যানার-লিফলেট নিয়ে চালান ভোটের দিনের প্রচারণা। নির্বাচন নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বিজয়ীরা আগামী তিন বছর ১৬৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

Share.
Exit mobile version