বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আজ যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে প্রস্তুতি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোও সফর ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা সামনে রেখে যশোরবাসী তাকিয়ে আছেন এই সফরের দিকে।
তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলা এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। সারা শহরজুড়ে সাজ সাজ রব। জেলাবাসীর মাঝে বইছে একপ্রকার আনন্দের ফল্গুধারা। বিশেষ করে ঐতিহাসিক উলাশী খাল এলাকার মানুষের মাঝে যেন বইছে ঈদের আনন্দ।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটিই তার পথম যশোর সফর। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি এ জেলায় এসেছিলেন। দলের পক্ষ থেকে বলছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরা এবং নতুন উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর বার্তা দিতেই এবারের সফরকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, যশোরে পৌঁছে শার্শা উপজেলার উলাশী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এই খাল খননের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতি, যিনি দেশব্যাপি খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। ফলে স্থানীয়রা এই উদ্যোগকে শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন। পানি নিস্কাশন ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া খালটি পুনঃখনন করা হলে আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এরপর যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যশোরে এসে জনসভায় এই প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘসময়েও স্বাস্থ্য খাতের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রোগীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সুযোগ বাড়বে এবং ঢাকামুখী রোগীর চাপ কমে আসবে।
সফরের আরেকটি প্রধান কর্মসূচি হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভাকে কেন্দ্র করে মঞ্চ নির্মাণ, বসার ব্যবস্থা, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি। জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে বিপুল সংখক নেতাকর্মী উপস্থিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
এদিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর খুলনা বিভাগে এটি তার প্রথম সফর। তার এই সফর ঘিরে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এই যশোর অতিথি পরায়ন জেলা। বিগত দিনগুলোতে রাষ্ট্রপতি জিউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া যে উন্নয়ন করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় তার উত্তরসূরি তারেক রহমান যশোরের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া সফরসূচিতে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শনের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে কাজ করছে। সফরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফসহ অন্যান্য ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের পথ ও জনসভার সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রুটে ভারি যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। শহরের বিভিন্ন সড়কে ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে এবং প্রচারপত্র বিতরণ, মিছিল ও পথসভার মাধ্যমে কর্মসূচির প্রচার করা হচ্ছে। দলীয় নেতারা বলছেন, জনসভায় বড় ধরনের সমাগম হবে বলে তারা আশা করছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে বাড়তি আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, যশোর অঞ্চলে অবকাঠামো ও জনসেবামূলক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এবারের সফরে সেসব প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট বার্তা আসতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে যশোরের প্রয়াত নেতা তরিকুল ইসলামের সময় যশোরে যে উন্নয়নের সূচনা হয়েছিল, তা নতুন করে গতি পাবে।
জেলা বিনেপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার খোকন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবার দেখানো পথেই এগিয়ে নিচ্ছেন উন্নয়নের ধারা।
রাজনৈতিক নেতারা মতে যশোরে যে বড় বড় উন্নয়ন হয়েছে, তার বেশিরভাগই বিএনপির শাসনামলে। তবে পরবর্তী সময়ে সেগুলোর অনেকই অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। তাদের মতে, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সময় শুরু হওয়া উন্নয়নের ধারা আবারও সচল হতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ঘোষণা ছাড়াও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সফরটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
