বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
ফেসবুকে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্টের প্রতিবাদ করায় উল্টো পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যশোর জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে।
বুধবার বেলা ১২ টায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়েজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন শহরের বেজপাড়া পিয়ারী মোহন রোড এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মামুন ও কাজী আশরাফুল ইসলাম সুমন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বড় মেয়ে মারিয়া মুনতাসারি গত ২৯ জুন বিদেশে অবস্থান করে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ‘আমরাই যশোর পরিবার’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে আব্দুল মামুন ও কাজী আশরাফুল ইসলাম সুমন ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর ও মানহানিকর পোস্ট দেন।
তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে গত ১ জুলাই তারা মারিয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে অ্যাডভোকেট তুহিন তাদের সঙ্গে আলোচনা না করে পুলিশকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে আপত্তিকর পোস্টগুলো দেখার পর তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। এরপরও একই ধরনের পোস্ট অব্যাহত থাকায় তারা পরবর্তীতে কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই জিডি করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন গত ৮ জুলাই আদালতে তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩০ জুন রেলগেট মডেল মসজিদ এলাকায় মামুন ও সুমন তার পথরোধ করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তার স্ত্রী ও মেয়ের ক্ষতি করার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া গত ৬ জুলাই লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করে আহত করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সংবাদ সম্মেলনে মামুন ও সুমন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাদের ভাষ্য, ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের প্রতিবাদ ও থানায় জিডি করার প্রতিশোধ নিতে তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, মামলার মাধ্যমে তাদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অপচেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সময় পুলিশ এনে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
