বাংলার ভোর প্রতিবেদক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ও ভারতীয় পাসপোর্টধারী এক নারীকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ দুই দিন নোম্যান্সল্যান্ডে আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী লিপিকা পাল (৪৩)। তার পাসপোর্ট নম্বর ইউ-২৬২২০৭৪।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ও বাংলাদেশি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসেন লিপিকা পাল। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ২৭ দিন অবস্থান শেষে গত ১২ জুলাই দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বেনাপোল চেকপোস্টে পৌঁছান। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জমা দেয়ার পর দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তাকে ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে বসিয়ে রাখা হয়। পরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডের ভারতীয় অংশের প্যারেড গ্যালারিতে রাখা হয়। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই সেখানে তাকে রাত কাটাতে হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ১৩ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হলে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। পরে দুপুরে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আবার নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছিল, একজন বাংলাদেশি নারী ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।
আমরা তাদের জানাই, ওই নারী বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং নিয়ম মেনেই নিজ দেশে ফিরছেন। তাকে ফেরত নেয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই।
এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুই দেশের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে একজন বৈধ ভারতীয় নাগরিককে অযথা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

