বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
দৈনিক ‘বাংলার ভোর’ পত্রিকায় ‘ফুটপাত ফাস্টফুডের দখলে, সড়ক ইজিবাইকের কব্জায়’ শিরোনামে যশোর শহরের যানজট পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। রোববার অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় যশোর পৌর এলাকার যানজট নিরসনকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেয়া হয়। সভায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১ জুলাই থেকে পৌরসভার অনুমোদন ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কোনো ভ্যান বা রিকশা শহরে চলাচল করতে পারবে না। শুধু যানবাহনের নিবন্ধন থাকলেই হবে না, চালকেরও বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে পৌরসভা, বিআরটিএ এবং ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করবে। পরে তাদের ৭ থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে এবং প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যশোর শহরে যানজটের অন্যতম কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী ভ্যান ও রিকশা। বর্তমানে পৌরসভার নিবন্ধিত ভ্যান-রিকশার সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৭০০টি। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে, যা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, “ভ্যান ও রিকশা চালকদের জন্য ৭ থেকে ১০ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য চালকদের লাইসেন্স প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাইকিং ও গণসচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”

জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে একটি সমন্বিত রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সড়কের দুই পাশের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা সকলের সহযোগিতা চাই। যশোরকে সুন্দর, নান্দনিক ও যানজটমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। নাগরিকদের সচেতনতা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।”

স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসান বলেন, রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া কোনো ভ্যান-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। আগামী ১ জুলাই থেকে এ কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে।

Share.
Exit mobile version