বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে তার প্রকৃত অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্বের তুলনায় প্রান্তিক অবস্থানে রাখা হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভাসানী পরিষদ যশোর।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, কৃষি খাত দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১১ শতাংশ অবদান রাখে এবং দেশের ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ জীবিকার প্রধান ভিত্তি হলেও জাতীয় বাজেটে এ খাত বারবার অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ভাসানী পরিষদ যশোরের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ ও সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান কবির বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জিডিপির অনুপাতে কৃষি খাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয় মাত্র ১ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হলো কৃষি।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, এটি কেবল বাজেটগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন দর্শনের একটি মৌলিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ। যে দেশে কৃষক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শ্রমশক্তি, সেখানে কৃষিকে প্রান্তিক খাতে পরিণত করা মানে উৎপাদনশীল ভিত্তিকে দুর্বল করা এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়া।

তারা আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় কৃষিকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং রপ্তানিমুখী কাঠামোর মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি-শিল্পে রূপান্তর করা জরুরি। কিন্তু বর্তমান বাজেটে এ ধরনের রূপান্তরের জন্য কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ, কাঠামোগত বিনিয়োগ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দেখা যায়নি।

ভাসানী পরিষদ, যশোর সরকারের কাছে কৃষি খাতে বরাদ্দ অন্তত ১২ শতাংশে উন্নীত করা, কৃষিকে আধুনিক কৃষি-শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় রোডম্যাপ ঘোষণা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষি গবেষণা, সেচ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা এবং খাদ্য নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, যে রাষ্ট্র তার কৃষককে অবহেলা করে, সেই রাষ্ট্র কখনোই আত্মনির্ভর, টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারে না। তারা কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই সত্যকে রাষ্ট্রীয় নীতিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান।

Share.
Exit mobile version