বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের শার্শায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে শার্শা উপজেলা প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে।
আটকরা হলেন, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ফাতেমা খাতুন। তাদেরকে শার্শা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
জানা গেছে, বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের মেয়ে অহনা খাতুন এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ওই কেন্দ্রের ৩০১ নং রুমে পরীক্ষা দিচ্ছিল। অহনা ঝিকরগাছার বিকেএস কুলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন পরীক্ষার পর গোপনে তার মেয়ের খাতায় প্রশ্নপত্র দেখে উত্তর সঠিক করে দেন। তাতে সহযোগিতা করেন ওই স্কুলের আয়া ফাতেমা খাতুন। বিষয়টি শার্শা উপজেলা প্রশাসন জানতে পেরে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় শার্শা প্রশাসন অভিযুক্ত ওই দুজনকে আটক করেন।
সূত্রে আরও জানা গেছে, এই ঘটনাটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বরত টিমের নজরে এলে আটক আয়া ফাতেমা খাতুনের কাছ থেকে নকলের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে এই কেন্দ্র কমিটির কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ গাউসুল আজম, হল সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান, সদস্য আব্দুস সালাম ও সদস্য মহেন্দ্রনাথ ধর এর দায়িত্ব অবহেলা ও স্বজনপ্রীতির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা কেন্দ্রে আরও কঠোর তদারকির দাবি উঠেছে।
শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক একডেমিক সুপারভাইজার এম নূরুজ্জামান জানান ঘটনাটি জানার পর শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রাথমিক ভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
