স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
যশোরের বাজারে তরমুজের সরবরাহ বেড়েছে। তরমুজ সাধারণত মার্চের মাঝামাঝিতে বাজারে আসে। এবার রমজান সামনে রেখে আগেই বাজারে তোলা হচ্ছে তরমুজ। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে তরমুজ। আগাম সরবরাহে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়লেও দাম নিয়ে ক্ষোভ আছে ক্রেতার।
জানা যায়, তরমুজের প্রধান উৎপাদন অঞ্চল দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে পটুয়াখালী, যেখানে দেশের মোট তরমুজ উৎপাদনের প্রায় ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ আসে। পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা ও ভোলা জেলার উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস তরমুজ চাষের উপযুক্ত সময়, তবে অনেক কৃষক জানুয়ারিতেও চাষ শুরু করেন। এ বছর কৃষকেরা রোজার আগেই তরমুজ বিক্রি করতে চাইছেন, ফলে সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাজারে আগাম তরমুজের উপস্থিতি বেড়েছে। কিছু বিক্রেতা অপরিপক্ব তরমুজও বাজারে নিয়ে আসছেন, যাতে সরবরাহ বাড়ানো যায়।
শুক্রবার যশোর শহরের বড় বাজার, দড়াটানা, হাসপাতাল মোড় মনিহার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমি ফল তরমুজের বাজার সরগরম হয়ে উঠেছে। তরমুজের আমদানি চোখে পড়ার মত। ছোট বড় তরমুজ থরে থরে সাজিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামার সাথে সাথে তরমুজের দোকানে ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। বিক্রেতারা ধারণা করছেন রোজার মধ্যে তরমুজের চাহিদা আরও বাড়বে। এদিন প্রতিকেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। আকার ভেদে প্রতি পিস তরমুজ ১৮০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
দড়াটানার তরমুজ বিক্রেতা শান্ত হাসান সাবিত বলেন, বাজারে তরমুজ ফলের আমদানি দিন দিন বাড়ছে। বেচাকেনা মোটামুটি শুরু হয়েছে। রোজার ভিতরে তরমুজের চাহিদা আরও বাড়বে। বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর দাম তুলনামূলক কম। আমরা এক’শ পিস হিসেবে কিনি। পতেঙ্গা, রাঙ্গামাটিচর, বরিশাল এলাকা থেকে তরমুজ আসে। আমরা যেমন দামে কিনতে পারি, তার উপর পরিবহন খরচ, মজুরি খরচ ধরে বিক্রি করি।
তরমুজ ক্রেতা বেসরকারি চাকুরিজীবী জহির উদ্দীন বলেন, ৩৫০ টাকা দিয়ে এক পিস তরমুজ কিনলাম। তরমুজ দেশি ফল, আমাদের দেশে উৎপন্ন হয়। তারপরও চড়া দামে কিনতে হয়। কেজি ধরণ তরমুজ বিক্রির এই নিয়ম বদলানো দরকার। রোজার মাসে রোজাদাররা পানি জাতীয় ফল তরমুজ ইফতারির তালিকায় রাখে। রোজার মাসে তরমুজের দাম যেন কমে। সাধারণ মানুষের বাড়তি দামে কেনা না লাগে তার জন্য ভোক্তা অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।