বেনাপোল সংবাদদাতা
বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক থেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সোমবার রাত দশটার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে মাছের চালানটি আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকালে আটক মাছের চালানটি নিলামে বিক্রি করা হয়।
মাছের আমদানিকারক ঢাকার সাজ্জাত এন্টারপ্রাইজ। চালানটি বন্দর থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পাচারের চেষ্টা করছিল বহুলালোচিত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আলেয়া এন্টারপ্রাইজ।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি ইলিশের একটি অবৈধ চালান আটক করা হয়েছিল। এতেও সংশ্লিষ্ট ছিল এ চক্রের সদস্যরা।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শুল্ক ফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।
এছাড়াও বিনা এন্ট্রিতে একটি সিণ্ডিকেট কোটি কোটি টাকার মালামাল শুল্ক না দিয়েই নিয়ে যাচ্ছে। চিহ্নিত শুল্ক ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠিন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা শুল্ক ফাঁকির কাজ করেই চলেছে।
এসব অনিয়মের সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দরের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপরাধীরা ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের লাইসেন্স রক্ষা করে আবারও ব্যবসার সুযোগ করে দেয়া হয় বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান। আর এদের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে রুই মাছ আমদানি করেছে। পরে মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০ প্যাকেজে ৬০০ কেজি রুই মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।
