বাংলার ভোর প্রতিবেদক

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের খোশালনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম তার পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছেন। এক মুহূর্তে স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েকে হারিয়ে শোকের সাগরে ভাসছে পরিবারটি।

মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টার দিকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শহিদুল ইসলামের বড় ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ হোসেন (৩০), ছোট ছেলে রাকিব হোসেন (২০), মেয়ে আয়শা খাতুন (৩৫), স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৫৫) এবং প্রাইভেটকার চালক মণিরামপুর উপজেলার চালুহাটি গ্রামের জাহিদ হোসেন (৩৫)।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় আয়শা খাতুনের ছেলে হুসাইন (৭) ও মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৩)। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত দুই শিশুর মধ্যে একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

নিহতদের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসলেম আলী এবং আবুল বাশার আবু জানান, ১১ বছর পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন আরিফ হোসেন। তাকে বরণ করে আনতে পরিবারের সদস্যরা সোমবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। গভীর রাতে আরিফকে নিয়ে প্রাইভেটকারে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

তারা জানান, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে খোশালনগরসহ আশপাশের গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

ইউপি সদস্য মোসলেম আলী বলেন, “এই দুর্ঘটনায় শহিদুল ইসলাম তার পুরো পরিবার হারিয়েছেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর আরিফ দেশে ফিরেছিলেন। পরিবারের জন্য আনন্দের দিনটি মুহূর্তেই শোকে পরিণত হলো।”

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিহতদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেছেন বলেও তিনি জানান।

Share.
Exit mobile version