অভয়নগর সংবাদদাতা :
যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদ দখল করে ঘাট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও ঘাটমালিকের বিরুদ্ধে। নদীর নাব্যতা সংকটের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম চর তৈরি করে নদীর জায়গা দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও গতিপথের পরিবর্তন ও তীরভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। নওয়াপাড়া নদীবন্দরের রাজস্ব আদায় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নওয়াপাড়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। নৌ, সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগব্যবস্থা থাকায় এ অঞ্চলে সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্যসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় বাজার গড়ে উঠেছে। রাজঘাট থেকে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আফরা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নওয়াপাড়া নদীবন্দরের বিভিন্ন স্থানে নদীর জায়গা দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর মধ্যে মাটি ও বালু ফেলে কৃত্রিম চর তৈরি করে সেখানে ঘাট, গুদাম ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং তীরবর্তী ফসলি জমি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। কিছু এলাকায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বিপরীত তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে ভাঙ্গাগেটের মশরহাটি গ্রামে ভৈরব সেতু এলাকায় নদীর জায়গা ভরাট করে স্থাপনা তৈরির চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরশ আটা, ময়দা ও সুজি মিল নামের একটি প্রতিষ্ঠান নদীর প্রায় ১০০ ফুট জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করছে। পাশের আক্তার এগ্রো নামের একটি বন্ধ কারখানার বিরুদ্ধেও নদীর অংশ দখলের অভিযোগ রয়েছে।
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল হোসেন বলেন, নওয়াপাড়ায় প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। নদীকে বাঁচাতে না পারলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে গম ও চালের মতো পণ্যের আগমন কমেছে এবং কয়লা আমদানিও আগের তুলনায় কমে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা অন্যত্র চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও ঘাটমালিকদের দাবি, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ ও কার্গো ঘাটে ভিড়তে সমস্যায় পড়ছে। এ কারণে পণ্য ওঠানো-নামানোর সুবিধার্থে মাটি ও বালু ফেলে এবং বাঁশ-কাঠের কাঠামো ব্যবহার করে অস্থায়ী ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে বন্দরে নয়টি সরকারি জেটি রয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিমালিকানায় প্রায় ১০০টি ঘাট রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ বলেন, কৃত্রিমভাবে চর তৈরি করে নদীর জায়গা দখলের সঙ্গে জড়িতদের তালিকা করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অবৈধ দখল রোধ ও সরকারি রাজস্ব বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং অবৈধ দখল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নওয়াপাড়ার শিল্প-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়তে পারে।
