মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ৭নং খেদাপাড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণবাটি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে আঙ্গুর চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার সফলতা দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন তার আঙ্গুর বাগানে।

প্রায় ৩৭ শতক জমিতে ১৮০টি চারা রোপণ করে তিনি রাশিয়ান জাতের ‘বাইকুনুর’ ও ‘অ্যাপোলো’ আঙ্গুরের চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার আঙ্গুর গাছের বয়স ১১ মাস। অল্প সময়ের মধ্যেই গাছে দৃষ্টিনন্দন ফলন আসায় তিনি স্থানীয়দের কাছে এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুর কাছ থেকে জানা গেছে, আঙ্গুর বাগান তৈরি ও পরিচর্যায় তার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আধুনিক পদ্ধতি ও উন্নত পরিচর্যার কারণে প্রতিটি গাছে গড়ে প্রায় ২০ কেজি করে আঙ্গুর উৎপাদন হচ্ছে। ফলে শুরু থেকেই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি প্রতি কেজি আঙ্গুর ৪০০ টাকা দরে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রি করেছেন। সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় হওয়ায় স্থানীয় বাজারেও তার আঙ্গুরের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

শুধু আঙ্গুর বিক্রিই নয়, তিনি আঙ্গুরের চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছেন। প্রতি চারা ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে এক বা দুইটি চারা কিনতে হলে প্রতি পিস ৩০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তার উৎপাদিত চারার চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার আঙ্গুর বিক্রির আশা করছেন। তার এই সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষক এখন আঙ্গুর চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামীতে আরও ৫০ শতক জমিতে আঙ্গুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর চাষ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের কাছে তার দাবি, কৃষকদের উৎপাদিত আঙ্গুর যেন ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ পায় এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা আরও বৃদ্ধি করা হোক।

Share.
Exit mobile version