মণিরামপুর সংবাদদাতা
মণিরামপুরে ভবদহ সংলগ্ন সুজাতপুর বিলে ৪৮টি স্যালোমেশিন দিয়ে ঘের সেচের সময় বুধবার রাতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পাশের কয়েকটি ঘের, কয়েক’শ বিঘা বোরো আবাদ ও বিজতলা প্লাবিত হয়েছে। ফলে এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো আবাদ নিয়ে দিশেহারা পড়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, অভয়নগর উপজেলার ভাটা ব্যবসায়ী শ্যামল রায়সহ ১৯ জন যৌথ মালিকানায় মণিরামপুর উপজেলার ভবদহ সংলগ্ন সুজাতপুর বিলে দেড় হাজার বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় সাত বছর আগে নির্মান করেন পল্লী মঙ্গল মৎস্য খামার। কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তারা জমজমাট ব্যবসা করে আসছিলেন।

বর্তমান শ্যামল রায় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খামারটি এখনও মূলত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন কেশবপুর উপজেলার পাজিয়া এলাকার মোস্তাক আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। মোস্তাক আহমেদ জানান, বোরো মৌসুমে ধান রোপনের জন্য তিনমাস ধরে ওই খামারে ৪৮ টি স্যালো মেশিন বসিয়ে সেচ চলছিল।

বর্তমান সেচ প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু পানির প্রবল চাপে বুধবার গভীর রাতে খামারের বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যায়। ফলে পাশে স্বপন রায়েরসহ ছোট কয়েকটি ঘের এবং আশপাশের তিন শতাধীক বিঘা বোরো আবাদ ও শতাধিক বিঘার বিজতলা প্লাবিত হয়। কুলটিয়ার স্বপন রায় জানান, পানির চাপে তার মৎস্য খামারের বাঁধটিও ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। অপর ব্যবসায়ী তপন রায় জানান, পানির প্রবল চাপে তার খামারের উত্তরপাশের বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে মাছ বেরিয়ে গেছে।

পল্লী মঙ্গল মৎস্য খামারের বড় বেড়ি বাঁধটি ভেঙ্গে আশপাশের বোরো আবাদ প্লাবিত হবার পর এখন নতুন করে পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হাটগাছা, মশিয়াহাটি, কুলটিয়া গ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও ফসলের ক্ষেত প্লাবিত হবার আশংকা দেখা দিয়েছে। বোরো আবাদ প্লাবিত হওয়ায় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতি গ্রস্থদের সান্তনা দেন। তবে পল্লী মঙ্গল মৎস্য খামারের বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েককোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, বেড়িবাঁধটি পুনরায় সংস্কারের চেষ্টা চলছে।

এ দিকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা গতকাল বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, এ ব্যাপারে করনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে বিকেলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন, মৎস্য অফিসার সেলিম রেজা ও কৃষি অফিসার মাহমুদা আকতারকে পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে।

Share.
Exit mobile version