মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুপুর বিশ্বাস বাস্তবে প্রায় ১৬ বছর যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তার স্বামী বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) প্রধান কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে চাকরি করে সম্প্রতি অবসরে গেছেন। সেই সুবাদে তিনি ঢাকায় স্বামীর সংসারে অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে নুপুর বিশ্বাস মাদ্রাসায় না আসলেও তার নামে প্রতিমাসে সরকারি বেতনভাতা উত্তোলনের পর ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে।

জানা যায়, মণিরামপুর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নুপুর বিশ্বাস ২০০৪ সালের ১১ জুলাই যোগদান করেন এবং ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এমপিওভুক্ত হন। অভিযোগ রয়েছে ২০১০ সালের পর তিনি আর মাদ্রাসায় আসেননি। নুপুর বিশ্বাসের স্বামী বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) প্রধান কার্যালয়ে চাকরি করতেন।

সেই সুবাদে তিনি ঢাকায় স্বামীর সাথেই বসবাস করেন। অবশ্য নুপুর বিশ্বাসের স্বামী সম্প্রতি চাকর থেকে অবসরে যান।

এদিকে নুপুর বিশ্বাসের নামে বছরের পর বছর ধরে সরকারি বেতনভাতা প্রতিমাসে ৪৬ হাজার ৬০৭ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। যার এমপিও ইনডেক্স নম্বর ২০১০৬৩৯। সে হিসেবে ১৬ বছরে প্রায় ৯০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। আর এ টাকা নুপুর বিশ্বাসসহ অধ্যক্ষ মিলে ভাগবাটোয়ারা করেন বলে মাদ্রাসার নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রের অভিযোগ। তবে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহসিন আলী বলেন, আমি মাদ্রাসায় যোগদান করেছি ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর।

পূর্ববর্তি অধ্যক্ষ ও সভাপতিরা নুপুর বিশ্বাসকে এ সুবিধা দেন। তারই ধারাবাহিকতায় নুপুর বিশ্বাসের প্রক্সি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মুরাদুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি। তাকে মাসে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানি দেয়া হয়। বাকি টাকা নুপুর বিশ্বাস এবং মাদ্রাসার কথিত উন্নয়নকল্পে খরচ করা হয়। এ ব্যাপারে জানতে নুপুর বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে (ফোন করে) তাকে পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসার গভর্নিংবডির সভাপতি ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন থাকেন ঢাকায়। তিনি মোবাইল ফোনে এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধু নুপুর বিশ্বাস নয়, এ ধরনের অভিযোগ আরো রয়েছে। তিনি বলেন অতি শিঘ্রই গভর্নিংবডির সভা ডেকে এসব দুর্নীতির অবসান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

আর এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের কথাও বলেন তিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share.
Exit mobile version