বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তার সুস্থতা কামনায় সারাদেশের মানুষ দোয়া করছেন। এমন পরিস্থিতি মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে যশোরের শার্শায় সড়ক অবরোধ করেছে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। শনিবার বিকেলে বেনাপোলে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাকর্মীরা। বিষয়টিকে ভালভাবে নেননি সাধারণ মানুষ। তীব্র যানজট সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মসূচি করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেতিবাচক সমালোচনা করছেন অনেকেই।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মহসিন কবির সমালোচনা করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী না। সব দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের নেত্রী। সেই নেত্রীর এই সংকটময় অন্তীমমূর্হতে এই ধরণের দলীয় সংকীর্ণ কর্মসূচি করছে তারা বিএনপির কর্মী হতে পারে না। তাদের মধ্যে ন্যুনতম মানবিকতা বলে কিছু নেই। দল বা নেত্রীর প্রতি ভালোবাসা থাকলে এ ধরনের কর্মসূচি করতে পারে না। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
সীমান্তবর্তী উপজেলা শাশা উপজেলা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। মনোনয়ন নিয়ে প্রথম থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিলো প্রকট। হাফ ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে এই আসনে বিএনপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেন দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান (তৃপ্তি)। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি গণসংযোগ করছেন। যদিও শার্শা বিএনপির একাংশের নেতারা প্রার্থী বদলের জন্য কেন্দ্রে লিখিত আবেদন করেছেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন এ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের নিয়ে এই দুই প্রার্থীর কর্মী সমর্থকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বিকেলে বেনাপোল বলফিল্ড মাঠে সমাবেশ হয়।
পরে নেতাকর্মীরা যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক দিয়ে শার্শা অভিমুখি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় অনেকেই কাফনের কাপড় পরিধান করে সড়কে অবস্থান নেন। নাভারণ মোড়ে যেয়ে এই কর্মসূচি শেষ করে। দীর্ঘক্ষণ ধরে এই কর্মসূচি চলাতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী ও মাঠের পরীক্ষিত নেতৃত্বকে উপেক্ষা করে হঠাৎ করে একজন ‘সংস্কারপন্থী নেতাকে মনোনয়ন দেয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রার্থী পরিবর্তন না করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন। উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসি উদ্দীন বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব বলেছেন প্রয়োজনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হবে। আমরা সে আশায় মাঠে নেমেছি। যদি এই প্রার্থী বাতিল না করা হয়, তবে বিএনপি এই আসনে ঠকে যাবে।’ মনিরুজ্জামান নামে এক যুবদল নেতা বলেন, ‘আমরা বাড়িছাড়া হয়েছি, কিন্তু উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে ছাড়িনি। দলের দুঃসময়ে যে কোনদিন মাঠে ছিলো না তাকে মনোনয়ন দেয়া হলো এটা আমরা মানি না। যদি তিনি দলের দুর্দিনে থাকতেন, তাহলে মানতাম। কিন্তু এই অতিথি পাখিকে আমরা মানি না।’ বিক্ষোভ শেষে অবরোধকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, ‘দলীয় প্রধানের সংকটময়মুহূর্তে আমরা দোয়া মাহফিল ছাড়া কিছু করছি না। এমন মুহূর্তে শার্শায় সড়ক অবরোধ করে মনোনয়নের দাবিতে বিক্ষোভ অবরোধ করা; সমালোচনা করার মতোই কর্মকাণ্ড। কর্মসূচির বিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা দলীয়ভাবে খোঁজ খবর নিচ্ছি।’
তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহির বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করছে। আজও হয়েছে। সেখানে আমরা ছিলাম না। শুনেছি সড়ক অবরোধও করেছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আবেগের জায়গা থেকে তারা দাবি জানাচ্ছে। তবে তারা যখন শুনেছে বিএনপির চেয়ারপারসর্ন শারীরিক অবস্থা সংকটপন্ন। তখনই তারা দোয়া করে তাদের কর্মসূচি বন্ধ করে।’

