মাগুরা সংবাদদাতা
মাগুরায় আসন্ন ঈদের ভিজিএফ চালের কার্ড ভাগাভাগি নিয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির দু’গ্রুপে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলামসহ অন্তত ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলা রুজু করে উভয় পক্ষের ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মাগুরা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের জন্য পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে ৩শ জনের জন্যে ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ করা হয়। বুধবার বেলা ১১ টার দিকে পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উজ্জ্বল হোসাইন ওই কার্ড বরাদ্দের জন্যে ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে যান। এ সময় বরাদ্দকৃত কার্ডের মধ্যে থেকে একটি অংশ দাবি করেন আবুল হোসেন আবু নামে একজন বিএনপি কর্মী। কিন্তু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলাম তাকে সেটি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পওে ওই ঘটনর জের ধরে রাত ৮টার উভয় পক্ষ বাটিকাডাঙ্গা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে আবুল হোসেন আবু সমর্থিতরা ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি শেখ তরিকুল ইসলামকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। এছাড়া প্রতিপক্ষের হামলায় আসলাম, বাকের, দেলোয়ার, ইয়াছিন, রহিলসহ আরো ১০ জন কমবেশি আহত হয়। আহতদের মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরপরই মাগুরা জেলা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-সুমন বিশ্বাস (৩৩), জামিল শেখ (৩১), রবিন খান (৩১), বাচ্চু মিয়া (৪৬), সাইফুল ইসলাম (৪৪), মো. ওসমান (২৩), সাব্বির হোসেন (২৫), হাফিজুল ইসলাম (২৭), শান্ত বিশ্বাস (১৯), আরিফ শেখ (৩৫), আনোয়ার হোসেন, মনিরুল শেখ, শিখা বেগম (২৬) ও আবুল হোসেন আবু (৫৬)।
এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানা-এ পৃথক দুইটি মামলা রুজু হয়েছে।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক বলেন, এলাকায় পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র্যাব এবং সেনা সদস্যদের টহল রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
