মাগুরা সংবাদদাতা
দীর্ঘ দুই দশক পেরিয়ে গেলেও মাগুরার আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র সম্প্রসারণের জন্য ঘোষিত ২০ একর জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম আজও সম্পন্ন হয়নি। ফলে অধিগ্রহণের তালিকাভুক্ত ৩৬টি ভূমি পরিবার চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় জমির মালিকরা নিজেদের জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, সরকার যদি দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না করে, তবে ঘোষণাটি বাতিল করে জমির উপর পূর্ণ মালিকানা ও ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক।

জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭’ অনুযায়ী নোটিশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা থাকলেও এ ক্ষেত্রে সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মানা হয়নি।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মসলা গবেষণা কেন্দ্রটি পরবর্তীতে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়। ২০০৬ সালে পৌরসভার দুটি মৌজায় ২০ একর জমি অধিগ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০১৫ সালে ৩৬ জন ভূমি মালিককে নোটিশ দেয়া হলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হয়নি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মনিরুজ্জামান ভূমি মালিকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ভূমি মালিক জামান আলী বলেন, “অধিগ্রহণের নোটিশের পর থেকে আমরা স্থায়ীভাবে বাড়ি নির্মাণ বা কৃষিতে বিনিয়োগ করতে পারছি না। বছরের পর বছর ঝুঁলিয়ে রেখে সরকার নিজেই আইন লঙ্ঘন করছে।”
অন্য ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক বলেন, “আমরা জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারছি না। সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক-অধিগ্রহণ করবে, নাকি বাতিল করবে।”

বর্তমান প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, অধিগ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নতুন সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি মৌখিকভাবে অবগত আছেন এবং তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান।

Share.
Exit mobile version