বাংলার ভোর প্রতিবেদক
মুক্তেশ্বরী নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ, নদী পুনঃখনন, উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন, যশোর’।
রোববার দুপুর ১টায় যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি পাঠানো হয়। সংগঠনটির সদস্য সচিব রাশেদ খান স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ভৈরব নদীর শাখা মুক্তেশ্বরী নদী যশোর শহরের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে সদর, মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর ও ডুমুরিয়া অতিক্রম করে সমুদ্রে মিলিত হয়েছে। ভবদহ অঞ্চলের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনের সঙ্গে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
এতে অভিযোগ করা হয়, উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সুযোগে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি নদীর জায়গা দখল করে প্লট বিক্রি, বহুতল ভবন নির্মাণ এবং কংক্রিটের স্থাপনা গড়ে তুলছে। দুর্নীতির মাধ্যমে নদীর সরকারি সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্রও তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসনের তদন্তে চাঁচড়া ইউনিয়ন এলাকায় অন্তত ২০টি প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলের বিষয় ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। একই সঙ্গে ক্রমাগত দখল ও ভরাটের কারণে বিল হরিণা এলাকায় শত শত একর জমি দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে।
সংগঠনটির দাবি, জেলা প্রশাসন আংশিক উদ্ধার ও খননকাজ শুরু করলেও নদীর বাকি অংশ উদ্ধারে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় মুক্তেশ্বরী নদী রক্ষায় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মুক্তেশ্বরী নদীর সব অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদী খনন, জিয়া খালের পুনঃখনন, উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে মুক্তেশ্বরীর সংযোগ পুনঃস্থাপন, নদী ও খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর প্রবাহ সচল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উজানে মাথাভাঙা-ভৈরব নদ সংযোগ স্থাপন।
স্মারকলিপিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, দ্রুত এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে যশোর শহর, যশোর সেনানিবাস, বিল হরিণাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র ও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হারুন অর রশিদ, জিল্লুর রহমান ভিটু, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, হাসিনুর রহমান, রাশেদ খান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মুক্তেশ্বরী দখল নিয়ে দৈনিক বাংলার ভোর ২০২৫ সালের মার্চে প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে।

