রাজগঞ্জ প্রতিনিধি
মণিরামপুর উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের মোবারকপুর ঘোষপাড়া তুলা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
কৃষক শহিদুল গাজী, জাহাবাক্স মোড়লসহ তুলা চাষে সংসারে সচ্ছলতা আসায় অন্য ইউনিয়নের চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন। অনুর্বর জমি ও কম পুঁজিতে নামমাত্র শ্রমে সরকারি সহযোগিতা পাওয়ায় দিন দিন তুলা চাষির সংখ্যা বাড়ছে। তাদের উৎপাদিত তুলা সরাসরি তুলা উন্নয়ন বোর্ড ন্যায্য দামে কিনে নিচ্ছে।
সরেজমিন জানা যায়, উপজেলা মোবারকপুর ঘোষপাড়ায় মাঠে সরকারি সহযোগিতায় পরীক্ষামূলকভাবে উন্নতজাতের তুলা চাষ হচ্ছে। কৃষি উপসহকারী বলেন, প্রথম বারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ব্যক্তি মালিকানায় জমিতে কৃষক হাইব্রিড প্রজাতির রুপালি-১ জাতের ও ডি-এম ৪ জাতে তুলার চাষ করেছেন এবং ফলনও ভালো হয়েছে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেতে এসিট, জেসিট, বোলওয়ার্ম, স্পটেট বোলওয়ার্ম ও আঁচা পোকার অক্রমণ দেখা দিয়েছিল। এএসব ক্ষেতে কীটনাশকের বদলে ফেরোমেন ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকার পেয়েছেন চাষিরা।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জমিতে রুপালি-১ জাতের, ডি-এম ৪জাতের তুলা চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে চাষির সংখ্যা অনেক বাড়বে। ইন্ডিয়ান ও পাকিস্তানি জাতের তুলা চাষ হলেও রুপালি- ১ ও ডি-এম ৪ জাতের তুলা অধিক ফলনশীল জাত। তাই কৃষক রুপালি-১ জাতের, ডি-এম ৪জাতের তুলা চাষেই আগ্রহী বেশি। প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুলা চাষ ছড়িয়ে দিতে সম্প্রসারিত তুলা চাষ প্রকল্প সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।
তুলা চাষি শহিদুল ইসলাম গাজী, জাহাবক্স মোড়ল, মহাতাব খাঁ, ইউনুছ খাঁসহ অনেকেই বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ালে অনেক অনুর্বর ও অনাবাদি জমিতে তুলা চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব। তাদের মতে অনুর্বর জমিতে তুলা চাষ করায় একদিকে যেমন জমির সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে বেশ টাকাও আসছে। ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা বলেন, তুলা চাষ গ্রীস্মকালীন ফসল। মে মাসের শেষ ভাগে বা জুনের শুরুতে তুলা বীজ বপণ করতে হয়। তুলার ভালো ফলনের জন্য গোবর বা সবুজ সারসহ পরিমিত পরিমাণে ইউরিয়া, টিএসপি, এমপি সার ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয়, আর জাত ভেদে বীজ বুনতে হয়। গত মৌসুমের সফল তুলা চাষি শহিদুল ইসলাম গাজী ও জাহাবক্স মোড়ল বলেন, ৬মাস পর ওই ফসল সংগ্রহ করা যায় জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে।
বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয় বীজসহ ১০ থেকে ১২মণ। যা বাজার মূল্য ৫ থেকে ৬হাজার টাকা মণ। সরকারি সহযোগিতা নেয়ায় তুলা উন্নয়ন বোর্ড বীজসহ তুলা কিনে নেয়। বিঘাপ্রতি সব মিলিয়ে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। এখানেও সরকার ভর্তুকি দেয়।
কৃষি কর্মকর্তা মারুফুল হক বলেন, মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্যের পরেই বস্ত্রের স্থান। আর এ বস্ত্রের ৭০ভাগ আসে তুলা থেকে। যেসব এলাকায় পতিত জমি আছে সেসব এলাকার কৃষককে তুলা চাষে আগ্রহী করতে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন চালুয়াহাটি ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তারা।
শিরোনাম:
- ইউনূস-মোদীর প্রথম বৈঠক
- ‘যশোর গণহত্যা’ শহিদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি
- শখের মোটরসাইকেলে প্রাণ গেল বাবা-মেয়ের
- ফ্যাসিস্টরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে : অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
- আজও একশ্রেণীর মানুষ দুর্নীতি, রাহাজানি, চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে
- যশোর হার্ট ফাউণ্ডেশনের উদ্যোগে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে মতবিনিময়
- যশোরে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ
- শার্শায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২